দুদকের তদন্তের দাবি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জ্বালানি তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের নাইটগার্ড হিসেবে চাকুরি করে আসছেন মিলন। দীর্ঘ সময় ধরে নাইটগার্ডের পাশাপাশি করে যাচ্ছেন চোরাইতেলের জমজমাট ব্যবসা!
এমনকি, আশে পাশে গড়ে উঠা চোরাইতেলের দোকানগুলো থেলে মাসিক মানথিও নাকি এই মিলনের মাধ্যমেই বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে পৌছে যায়। যার একটি স্বীকারোক্তি মূলক অডিও সংরক্ষিত রয়েছে এ প্রতিবেদকের কাছে।
এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে ফতুল্লার যমুনা ডিপো থেকে চোরাই তেলের ব্যবসা করে কোটিপতি বনে গেলেও সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। আর অদৃশ্য কারনে নীরব ভূমিকা পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী!
সামাণ্য নাইটগার্ড থেকে নোয়াখালী বেগমগঞ্জ থানাধীন এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিশাল অট্টালিকা। সে সাথে মালিক বনে গেছেন একাধিক ট্যাংকলরীর। হঠাৎ করেই সামান্য একজন নাইট গার্ডের এমন পরিবর্তনে সাধারন ব্যবসায়ী এবং পাশ্ববর্তী লোকজনদের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, নাইটগার্ড মিলন কি এমন আলাদিনের চেরাগ পেলেন যে হঠাৎ করেই তার এমন পরিবর্তন ঘটলো?
এ অবস্থায় আঙ্গুলফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া ফতুল্লার যমুনা ডিপোর নাইটগার্ড মিলনের আয়ের উৎসের খোঁজে দুদকের তদন্তের দাবি উঠেছে।
সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের প্রথম ধাপ থেকেই শুরু হয় চুরি। নানা প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার তেল লোপাট হচ্ছে। জ্বালানি তেল সরবরাহের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিমাণে কম দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। ডিপো থেকে তেল নিয়ে ফিলিং স্টেশনে যাওয়ার পথে এই তেলচোর মিলনের নেতৃত্বেই তেল লোপাটের ঘটনা ঘটছে। এলাকায় চোরাই তেল বিকিকিনির জমজমাট সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে এই তেলচোর মিলনের নেতৃত্বেই। জল পথে পরিবহণকালে জাহাজের গোপন খুপরির মাধ্যমেও তেল লোপাটের ঘটনা ঘটছে মিলনসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের নেতৃত্বে।
দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে তেল চোর মিলনের নেতৃত্বে তেলচুরির ঘটনা ঘটলেও তা ঠেকানোর কার্যত কোন উদ্যোগ নেই কারও।
অভিযোগ রয়েছে, এই তেলচোর মিলন স্থামীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিশেষ পরিচয়দানকারী ব্যাক্তিদের মাসোয়ারা প্রদানের মাধ্যমে চোরাই তেলের ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলেও উঠেছে অভিযোগ।
আর এভাবেই বছরের পর বছর ধরে কোটি টাকার তেল লোপাটের ঘটনা ঘটে আসলেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না এই তেল চোর মিলনের বিরুদ্ধে।
ফতুল্লায় যমুনা এবং মেঘনা অয়েল কোম্পনির সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে যোগায়োগ করা হলে তারা জানান, বিভিন্ন এবং বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটতে পারে। তবে, তেলচোর মিলনের বিষয়ে এর আগেও একাধিক অভিযোগে উঠেছে। তেলচোর মিলনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, সামাণ্য নাইটগার্ড থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া তেলচোর মিলনের আয়ের উৎস অনুসন্ধানে দুদকের তদন্তের দাবি উঠেছে।
ফতুল্লা মডেল থানার (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, চোরাই তেল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। পুলিশের অব্যাহত অভিযানে চোরাই তেল ব্যবসায়ীরা গাঁ দিয়েছে। এছাড়া চোরাই তেল ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা অনুযারী তেলচোরদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও ওসি জানান।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী বলেন, যমুনা ডিপোর নাইটগার্ড মিলনের বিষয়ে আমরা অবগত নই। গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে সম্প্রতি বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। যমুনা ডিপোর কর্মরত নাইটগার্ড মিলনের আয়ের উৎস এবং হঠাৎ করে এমন পরিবর্তন কিভাবে ঘটল সে বিষয়ে আমরা অফিসিয়াল ভাবেই খোঁজ নিব।




