সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
নারায়নগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টারিয়া) হাসপাতালের প্রয়াত সিনিয়র স্টাফ নার্স ফ্রান্সিলিয়া গোমেজের পরিবার গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার পরও তিনি অবসরোত্তর প্রাপ্য পেনশন, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সরকারি নথিপত্রে ১৯৬২ সালের জন্মতারিখ অনুসারে তাঁকে চাকরিতে বহাল রাখা হয়, নিয়মিত বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হয়, চজখ মঞ্জুর করা হয় এবং ২০২২ সাল পর্যন্ত সরকারি কোষাগার থেকে বেতনও প্রদান করা হয়। অথচ অবসরের পর হঠাৎ করেই জন্মতারিখ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর বৈধ পাওনা আটকে দেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা, অযৌক্তিক জটিলতা সৃষ্টি এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ফ্রান্সিলিয়া গোমেজের তাঁর ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। এমনকি শেষ বেতনের প্রত্যয়নপত্র নিয়েও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, একজন অবসরপ্রাপ্ত নার্স তাঁর জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত পেনশন ও প্রাপ্য অর্থের জন্য দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেছেন। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও ন্যায্য অধিকার না পাওয়ার মানসিক কষ্ট ও হতাশা তাঁকে ভেঙে দেয়। অবশেষে পেনশনের ন্যায্য অধিকার না পেয়েই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তাঁর স্বামী রিচার্ড সৌরভ দেউড়ী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং ৫২৬/২০২৬ দায়ের করেন। মহামান্য হাইকোর্ট বিষয়টি আমলে নিয়ে রুল জারি করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতে নির্দেশ প্রদান করেন।
পরিবারের দাবি, একজন সরকারি কর্মচারীকে বছরের পর বছর চাকরি করানো, বেতন-ভাতা প্রদান এবং অবসর সুবিধা অনুমোদনের পর হঠাৎ করে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করা শুধু প্রশাসনিক অসঙ্গতিই নয়, এটি ন্যায়বিচার ও সুশাসনের পরিপন্থী।
আমরা প্রশ্ন রাখতে চাই
১৯৬২ সালের তথ্যের ভিত্তিতে চাকরি, বেতন ও ইনক্রিমেন্ট বৈধ হলে অবসরের পর তা অবৈধ হয় কীভাবে?
২০২২ সাল পর্যন্ত বেতন প্রদান করা হলে সেই দায়িত্ব কার?
কেন একজন অবসরপ্রাপ্ত নার্সকে তাঁর ন্যায্য পেনশন পেতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হলো?
কেন তাঁর পরিবার আজও প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত?
আমরা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ী কর্মকর্তাদের জবাবদিহি এবং প্রয়াত ফ্রানচিলিয়া গোমেজের সকল পেনশন ও অবসরজনিত প্রাপ্য অর্থ দ্রুত পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি।
রিচার্ড সৌরভ দেউড়ী
রিট পিটিশনার
রিট পিটিশন নং ৫২৬/২০২৬
স্বামী, প্রয়াত ফ্রানচিলিয়া গোমেজ
নারায়ণগঞ্জ।




