স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যেন আবারও প্রমাণ হলো—ক্ষমতার ছায়া থাকলে আইনও অনেক সময় নির্বাক হয়ে পড়ে। এবার সেই দাপটের শিকার হলেন এক চিকিৎসক, আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ল সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবার ওপর।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার ছোট ভাই বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি ও তার সহযোগীরা মিলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্ব পালনরত এক চিকিৎসকের ওপর প্রকাশ্য হামলা চালিয়েছেন। ঘটনাটি শুধু একটি মারধরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত।
রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঘটে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা।
চিকিৎসকরা জানান, চামুরকান্দি এলাকার এক রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রয়োজনীয় ইনজেকশন বাইরে থেকে আনতে বলা হয়। কিন্তু সেই ইনজেকশন প্রয়োগের সময় নিয়ে সামান্য বাকবিতণ্ডাই মুহূর্তেই রূপ নেয় ভয়াবহ সহিংসতায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিল্লাল হোসেন ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন হঠাৎ করেই চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল কামালের ওপর চড়াও হন।
কিল-ঘুষি ও লাথিতে তাকে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়। একজন চিকিৎসক, যিনি মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য শপথ নিয়েছেন—তাকেই নির্মমভাবে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর মতো অবস্থায় ফেলা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠাতে হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগ চালু রাখলেও হাসপাতালের অন্যান্য সেবা বন্ধ করে দেন। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ পড়েন চরম ভোগান্তিতে। একদল প্রভাবশালীর বেপরোয়া আচরণের কারণে গোটা এলাকার মানুষকে এর মূল্য দিতে হয়েছে—এটাই সবচেয়ে উদ্বেগজনক বাস্তবতা।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে আশ্বাস দিলেও প্রশ্ন থেকেই যায়—এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে কেন? কেন চিকিৎসকরা নিরাপদ নন তাদের কর্মস্থলেও ? আর কতবার “আশ্বাস” দিয়ে দায় এড়ানো হবে ?
স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনার কথা জানানো হলেও, বাস্তবে দোষীদের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে অনেক সময়ই তদন্ত ধীরগতির হয়ে পড়ে, আর ন্যায়বিচার হারিয়ে যায় কাগজপত্রের স্তূপে।
আড়াইহাজারের এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়; এটি ক্ষমতার অপব্যবহার, আইন-শৃঙ্খলার দুর্বলতা এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাহীনতার একটি নগ্ন উদাহরণ। এখন প্রশ্ন—এই দৃষ্টান্ত কি কঠোর শাস্তির মাধ্যমে থামানো হবে, নাকি আবারও সবকিছু ধামাচাপা পড়ে যাবে ?
মানুষ এখন আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান বিচার দেখতে চায়।
source of news: nnu24.com




