নিজস্ব সংবাদদাতা // বন্দরের মদনগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে এলাকাবাসী। অভিযানের নামে অপরাধীদের সাথে সাধারন জনগনকেও ছাড় দিচ্ছে না। অভিযানে আটক করে নিজ কার্যালয়ের মূল ঘারধে না রেখে পুকুরপাড় পৃথক একটি রুমকে বাণিজ্যিক কক্ষে পরিনত করছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী জানান।
পুলিশের পূর্বের সুনাম ফিরিয়ে আনতে নতুনরুপে কাজ করলেও বন্দর থানা পুলিশের বিষয়টি উল্টো। নানা অপকর্মের প্রমানসহ গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ সুপার ব্যবস্তা গ্রহন করেছে। বির্তকিত কর্মকান্ডের জন্য বন্দর থানা পুলিশের ৪ জন দাড়োগাসহ সপ্তাহ না পেরিতে ওসিকে বদলী করে ফের সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। তারপরও থেমে নেই বন্দরের মদনগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরুল ইসলাম। প্রতিদিনই করছে নানা পন্থায় বাণিজ্য। গ্রেফতার বাণিজ্য, মামলার ভয় দেখিয়ে বাণিজ্য, আটককৃতদের ইচ্ছে মত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রমানসহ অভিযোগ রয়েছে। তার ইচ্ছেমত আটককৃতদের মধ্যে কাউকে মামলা দিয়ে থানায় পাঠায়। আবার কাউকে ভোর ৪ টা হতে সূর্য উঠার পূর্বেই ফাঁড়ি থেকে বিদায় দেয়া হয়। ইনচার্জ নূরুল ইসলামের নানাবিধ বাণিজ্যিক কারিশমায় বিষিয়ে তুলছে সচেতন মহলকে। এ বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারও বন্দর থানা পুলিশ পরিদর্শকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী
মদনগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়!
স্থানীয় ও সাধারণ মানুষের মতে, মদনগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করে। ফাঁড়ির ভিতরে পুকুর পাড় একটি রুমে আটক করে রাখা হয়। পরে তাদের কথার সাথে মিললে ফাঁড়ি থেকে ছেড়ে দেওয়ার প্রমানসহ অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের সাথে তার ব্যবহারও ভালো নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, অবৈধভাবে কাউকে আটকে রাখা এবং মামলার চার্জ গঠন না করার অভিযোগ তুলেছেন। কোন নতুন মামলা রুজু হলে গ্রেফতারকৃতের সাথে আরো মনমত নতুন নামও দেয়া হয়। যা আইনের ধারায় কতটুকু তিনি করতে পারেন তা পুলিশ সুপার ও থানা পুলিশের পরিদর্শক তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী সচেতন মহলের।
ফাঁড়ির এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “নূরুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফাঁড়িতে ঘুষের লেনদেন বেড়ে গেছে। কোনো কাজের জন্য গেলে টাকার দাবি করা হয়। টাকা না দিলে কাজ হয় না।”
অন্য এক বাসিন্দা বলেন, “নূরুল ইসলাম মানুষকে অকারণেই হয়রানি করেন। কাউকে আটকে রেখে টাকা দাবি করেন। টাকা দিলে ছেড়ে দেন, না দিলে মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দেন।”
নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ছাড়াও সাধারণ মানুষের সাথে অভব্য আচরণের অভিযোগও রয়েছে। অনেকের মতে, তিনি সাধারণ মানুষের সাথে রূঢ় আচরণ করেন।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “মদনগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা এই বিষয় নিয়ে তদন্ত করছি। তদন্তের রিপোর্ট আসার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




