নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক ট্যাংকলড়ি চালকের বাড়িতে অস্ত্রধারী মুখোশধারী ডাকাত দলের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ডাকাতদের বাধা দিতে গেলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। এ সময় বাড়ির এক বৃদ্ধাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার ডান হাতে কোপ দেয় এবং বাবুলের স্ত্রী কান ছিড়ে দুল নিয়ে যাওয়াসহ নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুটে নিয়ে ধলেশ্বরী নদীপথে ট্রলারে করে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
রোববার (২৮ জুন) ভোরে ফতুল্লা উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের পূর্ব গোপালনগর এলাকায় ট্যাংকলড়ি চালক বাবুল মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন প্রতিবেশী গিয়াস উদ্দিন (৪৮) এবং বাবুলের মা-ভাই ও স্ত্রীসহ ৪ জন আহত হয়।
ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া জানান, রাত আড়াইটায় ২০ থেকে ২৫ জনের মুখোশধারী ডাকাত ধলেশ্বরী নদীপথে ট্রলারে করে এসে তার বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা নিচতলার কলাপসিবল গেটের তালা কেটে ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের হাত–পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে তার মা বিউটি আক্তার চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকতে চাইলে ডাকাতরা তাকে মারধর করে।
তিনি আরও জানান, ডাকাতরা আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে। এ সময় প্রতিবেশী গিয়াস উদ্দিন এগিয়ে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে শর্টগান থেকে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি তার কাঁধে বিদ্ধ হয়। পরে ডাকাতরা ট্রলারে করে ধলেশ্বরী নদীপথে পালিয়ে যায়।
নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, গিয়াস উদ্দিনের কাঁধে বিদ্ধ শর্টগানের একটি বল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা হয়েছে। মারধরে আহত বিউটি আক্তারকেও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতরা নদীপথে ট্রলারে করে এসে একই পথে পালিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে শর্টগানের একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।




