ষ্টাফ রিপোর্টার:
ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় মদ খেয়ে মাতাল হয়ে যুবদল নেতা রুবেল হোসেনসহ আন্ত:জেলা গাড়ির কাউন্টারের ষ্টাফদের মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ফতুল্লায় স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মামুন হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ও তালিকাভুক্ত ক্রসফায়ারের আসামি কিলার নয়ন ও যুবদল সভাপতি মিঠু খান। বৃহস্পতিবার রাতে শিবু মার্কেটের সামনে মসজিদের সামনে আন্ত:জেলা পরিবহন কাউন্টারের সামনে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দেন মাতালরা।
সেখানে অবস্থানরত বাস কাউন্টারের ষ্টাফরা জানান,রাতে হঠাৎ করেই মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় ফতুল্লা ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মিঠু খান ও ফতুল্লায় স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মামুন হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ও তালিকাভুক্ত ক্রসফায়ারের আসামি কিলার নয়ন কাউন্টারের ষ্টাফদেরকে মারধর শুরু করে। এ সংবাদ শুনে পাশে নিজের দোকানে অবস্থানরত যুবদল নেতা রুবেল হোসেন এগিয়ে মাতাল নয়ন ও মিঠু রুবেলের গায়েও হাত তোলে। পরে রুবেল সম্মানজনকভাবে মাতাল যুবদল নেতা মিঠু খান ও কিলার নয়নকে স্থান ত্যাগ করতে বলেন।
দুই মাতাল সেখান থেকে চলে গেলে কাউন্টারের ষ্টাফরা ন্যায় বিচারের জন্য থানায় উক্ত মিঠু খান ও নয়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চাইলে রুবেল তাদেরকে আশ^স্ত করেন যে তোমরা যা চাও তাই হবে। তবে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দরা থানায় যেতে বারন করেন এবং ওদেরকে কঠিন শাস্তি দিবেন বলে আশশ^স্ত করেন রুবেলকে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আলোচিত স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ও তালিকাভুক্ত ক্রসফায়ারের আসামি কিলার নয়নকে এবার ফতুল্লা ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মিঠু খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা গেলে তা নিয়ে বিএনপির তৃনমুলের প্রতিটি নেতাকর্মীর মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন,আমাদের সহযোদ্ধাকে নির্মমভাবে হত্যাকারী কিলার নয়নকে কিভাবে ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শেল্টার দেন এবং তার সঙ্গে নিয়েই রাজনীতির ময়দানে ঘুরে বেড়ান। নিজের স্বার্থের জন্য মিঠু খান নেতাকর্মীদের রক্তের সাথে বেঈমানী করতে পারলেও আমরা কিন্তু সেটা করতে পারবোনা। আমরা চাই একজন কিলারকে সহযোগিতা করার দায়ে তারা মিঠু খানের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কিলার নয়নের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তথ্যমতে, একসময় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ইবু ও নয়ন গোটা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতেন। এমন কোনো অপকর্ম ছিল না, যা এই জুটি করত না। ফলশ্রুতিতে দুই শীর্ষ অপরাধীর নামই ক্রসফায়ারের তালিকায় আসে। তবে ইবু ক্রসফায়ারে নিহত হলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান কিলার নয়ন।
বেশ কিছুদিন আগে ফতুল্লার আলোচিত স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মামুন হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধেও মামলা হয়। তিনি ওই মামলায় কারাভোগ করে জামিনে বের হন। জামিনে বের হয়ে পূর্বের ন্যায় নানা অপকর্মে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। আর এসব কর্মকান্ডে তাকে শেল্টার দিচ্ছেন ফতুল্লা ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মিঠু খান।
এতে করে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিএনপির তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
তাদের ভাষ্য, যে ব্যক্তি ক্রসফায়ারের তালিকাভুক্ত আসামি, যার অতীত এত ভয়ঙ্কর, এবং যিনি একজন বিএনপি নেতাকে হত্যা মামলার আসামি তাকে কীভাবে শেল্টার দিচ্ছেন মিঠু খান?
এ বিষয়ে ফতুল্লা ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মিঠু খান এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে ( ০১৬৩২-৯৭৩৮@@) একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোনটে রিসিভ না করে কেটে দেন।



