কারাগার থেকে জামিনে বের হয়েই ফের ফতুল্লায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে আলোচিত সন্ত্রাসী ‘কিলার’ নয়ন। তবে এবার আর আড়ালে নয়, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের প্রকাশ্য ‘শেল্টারে’ পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ফতুল্লা ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মিঠু খানের সঙ্গে নয়নের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ফতুল্লা জুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। একজন নিজ দলীয় নেতা হত্যা মামলার আসামিকে এভাবে যুবদল নেতার অভয়শ্রমে স্থান দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বিএনপির তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফতুল্লায় একসময় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল ইবু ও নয়ন জুটি। চাঁদাবাজি, এলাকা দখল থেকে শুরু করে এমন কোনো অপরাধ ছিল না যা তারা করত না। তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকায় দুইজনের নামই ‘ক্রসফায়ার’-এর তালিকায় ওঠে। পরবর্তীতে ইবু ক্রসফায়ারে নিহত হলেও কৌশল খাটিয়ে বেঁচে যান কিলার নয়ন।
কিছুদিন আগে ফতুল্লার আলোচিত স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মামুন হত্যাকাণ্ডের পর মামলার এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে নয়নের নাম আসে। ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে কিছুদিন জেল খাটার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, জেল থেকে বের হয়েই পূর্ণোদ্যমে পুরনো অপকর্মে লিপ্ত হয়েছেন নয়ন, আর তার মূল খুঁটির জোর হিসেবে কাজ করছেন যুবদল নেতা মিঠু খান।
দলীয় একজন নেতার হত্যাকারীকে এভাবে নিজ দলেরই অন্য এক নেতা আশ্রয় দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ত্যাগী নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,যে ব্যক্তি ক্রসফায়ারের তালিকাভুক্ত আসামি, যার হাত আমাদেরই ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত, তাকে যুবদল নেতা মিঠু খান কীভাবে শেল্টার দেন? এতে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অবিলম্বে মিঠু খানের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং কিলার নয়নের অপতৎপরতা বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।



