জাগো নারায়ণগঞ্জ
নারায়নগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোঃ রমজান নামে এক সরকারী কর্মচারী।
বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন জমিতে আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার, বেআইনি নোটিশ জারি ও ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং প্রতিকার চেয়েছেন মোঃ রমজান।
লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মোঃ রমযান, স্বাস্থ্য সহকারী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ।
আড়াইহাজার সিভিল জজ আদালতে বিচারাধীন আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে আড়াইহাজারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুর রহমান কর্তৃক চলমান ক্ষমতার অপব্যবহার ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আপনার সদয় অবগতি ও আইনগত প্রতিকার চেয়ে মূল বিবরণ নিচে পেশ করছি:
১. জমির বিবরণ ও মালিকানা:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার সিভিল জজ আদালতে বিচারাধীন জমির তফসিল হলো: খতিয়ান নং- সি.এস-২৮৭, এস.এ-২২৬, আর.এস-১৯২ এবং দাগ নং-সি.এস/এস.এ-১৩০, আর.এস-১৭৫। উক্ত মোট ২৩ শতাংশ জমির মধ্যে নামজারি খতিয়ান-২৭০ মূলে ১২ শতাংশের বৈধ মালিক আমার পিতা আঃ আউয়াল এবং নামজারি খতিয়ান-৪৩৮ মূলে ১১ শতাংশের মালিক আঃ রশিদ সম্পূর্ণ জমিটি নিষ্কণ্টক ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং হাল সন (১৪৩৩ বাংলা) পর্যন্ত নিয়মিত খাজনা-ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধিত। উক্ত খতিয়ান ও দাগের ভেতরে কোনো সরকারি রাস্তার অস্তিত্ব নেই।
২. আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা ও ইউএনও-র ভূমিকা:
উক্ত সম্পত্তি রক্ষার্থে বিজ্ঞ আড়াইহাজার সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা নং ৪৯/২০২৬ বিচারাধীন রয়েছে, যার পরবর্তী হাজিরার তারিখ আগামী ০৩/০৯/২০২৬ইং। উক্ত মামলার অন্যতম বিবাদী আড়াইহাজারের ইউএনও মোঃ আসাদুর রহমান (যিনি পৌরসভার প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন)| তিনি বিজ্ঞ আদালতে আইনানুযায়ী কোনো লিখিত জবাব দাখিল না করে, আদালতের বিচারাধীন বিষয়টিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলেছেন।
৩. গণশুনানিতে বিষয়টি উত্থাপন ও এডিসি মহোদয়ের বক্তব্য:
গত ১৫/০৭/২০২৬ইং এবং ২২/০৭/২০২৬ইং তারিখে আপনার কার্যালয়ে (ডিসি অফিস) অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে আমি স্বয়ং উপস্থিত হয়ে ইউএনওর এই অপকর্মের বিরুদ্ধে পূর্বের অভিযোগ আমলে না নেওয়ার বিষয়টি আপনার নিকট উত্থাপন করি সেই সময় আপনার উপস্থিতিতেই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাফী বিন কবির স্পষ্ট ব্যক্ত করেন যে-“আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।” তা সত্ত্বেও ইউএনও ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে চলেছেন।
৪. ছায়া বাদী সাজিয়ে বেআইনি বিবিধ মামলা ও নোটিশ:
আদালতের বিচারাধীন বিষয় জানা সত্ত্বেও ইউএনও মোঃ আসাদুর রহমান সম্পূর্ণ ক্ষমতার অপব্যবহার করে আঃ হালিম নামের এক ব্যক্তিকে “ছায়া বাদী” সাজিয়েছেন। উক্ত জমিতে “সরকারি রাস্তার ওপর দেওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে”-এমন সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে বিবিধ মোকদ্দমা নং ৩০/২০২৬ দায়ের করে নোটিশ জারি করেছেন
৫. কার্যালয়ে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মোবাইল কোর্টের
অপব্যবহার:
রাস্তার সরকারি রেকর্ড বা গেজেট দেখতে চাওয়ায় দেওয়ানি মামলার মূল বাদী মোঃ রমযানকে ইউএনও মোঃ আসাদুর রহমান নিজ কার্যালয়ে ডেকে এনে অন্যায়ভাবে আটকে রাখেন। সেখানে চরম ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শনের মাধ্যমে একটি মোবাইল কোর্টের কাগজে জোরপূর্বক তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
এমনকি দেওয়ানি মামলার অধীনস্থ সীমানা প্রাচীর নিজ দায়িত্বে ভেঙে না ফেললে তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সরাসরি ও বেআইনি হুমকি দেওয়া হয়, যা ক্ষমতার চরম অপব্যবহার
৬. বর্তমান আইনি পদক্ষেপ:
বিজ্ঞ দেওয়ানি আদালতের মূল আরজিতেই ইউএনওর মৌখিক নির্দেশে ভাঙচুর ও হুমকির বিষয়টি পূর্বেই উল্লেখ করা ছিল। বর্তমানে ইউএনও কর্তৃক প্রেরিত বেআইনি বিবিধ মোকদ্দমার (৩০/২০২৬) বিপরীতে আমার দেওয়ানি কার্যবিধির (CPC) ১০ ধারা এবং মহামান্য আদালতের বিচারাধীন মামলার সূত্র উল্লেখ করে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিতকরণের লিখিত জবাব ও আবেদন জমা দিয়ে রিসিভকপি সংগ্রহ করেছি। উল্লেখ্য যে, বাদীর স্ত্রী শেফালী কর্তৃক নিজস্ব মোবাইলে ধারণকৃত ভাংচুরের স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ অকাট্য ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে বাদীর কাছে সংরক্ষিত আছে, যেখানে ভাংচুরকারী ব্যক্তিদের স্পষ্টভাবে চেনা যাচ্ছে।
বিনীত প্রার্থনা:
বিজ্ঞ দেওয়ানি আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আড়াইহাজারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আসাদুর রহমান কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বেআইনি বিবিধ মোকদ্দমা নং ৩০/২০২৬ এর সকল কার্যক্রম অবিলমে স্থগিত করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দানে আপনার সুমর্জি হয়। সেই সাথে সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার জান-মালের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে আপনার সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সদয় অবগতির জন্য অনুলিপি
১। বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা বিভাগ, ঢাকা।
২। সিনিয়র সচিব/সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা প্রেরন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুর রহমান কে একাধিক মুঠোফোনে কল করা হলে রিং হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।




