জাগো নারায়ণগঞ্জ
নারায়নগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর এর পরকিয়া প্রেমিক সালমানের পুত্র মোহাম্মদ আরিফের সাথে ঘুরতে গিয়ে মৃত্যুবরন করেন তানজিলা।
যতদিন যাচ্ছে তানজিলার মৃত্যু ঘিরে রহস্যের দাঁনা বাঁধছে। আর এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরকিয়া প্রেমিক আরিফ ও তার পরিবার বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করে মাঠে নেমেছে।
সরেজমিন বক্তাবলীর কানাইনগর নগর,লক্ষীনগর ও তানজিলার শ্বশুর বাড়ি এলাকা ঘুরে জানা গেছে অজানা কিছু তথ্য।লাশ বহনকারী অটো চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তানজিলা হত্যা নাকি দূর্ঘটনা তা সহজে বের হয়ে যাবে।আরিফের পরিবার,স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের হুমকিতে অটো চালক কোথায় পালিয়ে আছে কেউ বলতে পারেনি।
এলাকাবাসীর দাবী যেহেতু তানজিলাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি স্রেফ দূর্ঘটনা এটি পিবিআই বা সিআইডি তদন্ত করলে এর ক্লু বের হবে।
নিহত তানজিলার চাচা বাছেদ বলেন,বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান ফকির, ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মোঃ বাদশা মিয়া,বক্তাবলী ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি রহমতউল্লাহর উপস্থিতিতে সাদা কাগজে পুলিশ সই নেয় তানজিলার মৃত্যু দূর্ঘটনার কারনে হয়েছে।লাশ দাফনের পরে লোক মুখে জানতে পারি তানজিলাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তানজিলা কোথায় দূর্ঘটনার শিকার হয়েছে তার নিদিষ্ট স্থান কেউ বলতে পারেনি।বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মীর আজিজুর রহমান বলেন,কানাই নগর হয়েছে।কেউ বলেন মুন্সিগঞ্জ সোনারং মহিলা মাদ্রাসার সামনে,আবার কেউ বলেন,মাওয়া যাওয়ার পথে।
আরিফের সাথে তানজিলার পরকিয়ার থাকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুত্র জানায়,মিজান ফকিরের পাঠানো ৬৫ লাখ টাকা আত্নসাত করতে আরিফ এই ঘটনা ঘটিয়েছে।তানজিলার মৃত্যুর পর উল্লেখিত নেতাদের ম্যানেজ করে লাশ পোস্ট মটেম ছাড়া দাফন করায় রহস্য আরো ঘনিভূত হচ্ছে।
তানজিলার বাবা কোন কাজকর্ম করেননা তার মা যা বলেন তানজিলার বাবা তাই বলেন।কারো হুমকিতে ও ময়নাতদন্ত ছাড়া তানজিলা দূর্ঘটনায় মারা গেছে বলে পুলিশে সাদা কাগজে সই নেয়ার ঘটনা কতটা আইনী যুক্তি আছে বলে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অপর দিকে সামসুলের মোড়ে তানজিলার স্বামী মিজান ফকিরের বাড়িতে গিয়ে তার বক্তব্য জানতে গেলে তিনি বাড়িতে নাই বলে জানান।
তার বোন বলেন,আপনি কি জাগো নারায়ণগঞ্জের।কালকে একটি ভূলভাল নিউজ করেছেন।সেটা সরিয়ে দিয়েন।বিএনপি নেতা মতিউর রহমান ফকির আমার চাচাতো ভাই। তানজিলা কিভাবে মারা গেছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,ভয় পেয়ে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে।তাহলে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ও রক্তাক্ত হলো কিভাবে এ প্রশ্নের জবাবে বলেন,কলার চোকলায় পিছলে বটির উপরে পড়ে মাথা কেটে গেছে।ডাক্তাররা বেশী কেটে সেলাই করছে।তানজিলার কাছে পাঠানো ৬৫ লাখ টাকা আত্নসাত করতে কি এ ঘটনা প্রশ্নের জবাবে বলেন,আমার ভাই সব টাকা আমার বাবার কাছে পাঠাতো।তিনি সেই টাকা আমার ভাইয়ের একাউন্টে রেখে দিতেন।
ক্লুলেস হত্যা বা দূর্ঘটনা যাই হোক তা পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করলে প্রকৃত সত্য বেড়িয়ে আসবে।
এ ব্যাপারে বক্তাবলী ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ বাদশা মিয়া জাগো নারায়ণগঞ্জ ২৪.কমকে মুঠোফোনে বলেন,আমি ট্রলারে আছি। জেলা বিএনপির অনুষ্ঠানে যাচ্ছি।পরে কথা বলবো বলে সংযোগ বিছিন্ন করে দেন।
বক্তাবলী ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মোঃ রহমত তুল্লাহ বলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারন সম্পাদক সই করায় আমি কাগজে সই করছি।
বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান ফকির বলেন,আমি স্বাক্ষী হিসেবে ছিলাম দুই পক্ষের কেউ মামলা করবেনা। এর বেশী কিছু জানিনা।
বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান বলেন,আমি কানাইনগর পরিষদে ছিলাম।খবর পেয়ে গিয়ে দেখি মেয়ে পক্ষ ও মেয়ের স্বামী উপস্থিত। তারা কেউ মামলা করবেনা বলে জানায় সেই স্বাক্ষী ছিলাম।দূর্ঘটনায় মারা গেছে এরকম স্বাক্ষী দেইনি।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন এ ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি খন্দকার মাজেদুল ইসলাম সম্রাট বলেন,যেহেতু ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে এ রকম কোন সুযোগ নেই।দুই পক্ষের কেউ মামলা না করতে চাইলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতে পারে।




