ষ্টাফ রিপোর্টার:
গত ৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৫(সদর-বন্দর) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মাসুদুজ্জামান মাসুদকে মনোনীত করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে জোয়ার সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজও করছেন মাসুদ। তার সঙ্গে আছেন মহানগর বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী, বন্দর থানা/উপজেলা বিএনপির প্রায় সকল নেতাকর্মী। কিন্তু বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন সংস্কারবাদী, বিএনপির বিদ্রোহী, বিএনএফ ও এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রীর সংগঠন বিদিশা ফাউন্ডেশনে জড়িত বিএনপির নামধারী নেতারা।
সূত্রে, ১/১১ এর সময় বিএনপি থেকে জিয়া পরিবারকে মাইনাস করার চক্রান্তে লিপ্ত ছিলেন সংস্কারপন্থী নেতারা। ওই সংস্কারপন্থীদের সঙ্গে যোগ দেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল কালাম। তিনিও এবার দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর বিরোধীতা করছেন। তার সঙ্গে জোট বেধেছেন তারই পুত্র মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা।
২০০৯ সালে নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির কমিটির সম্মেলনে ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন প্রয়াত জাহাঙ্গীর আলম সভাপতি ও এটিএম কামাল সাধারণ সম্পাদক। ওই সম্মেলনের বিরোধীতা করে পাল্টা বিদ্রোহী কমিটি ঘোষণা করেছিলেন বর্তমান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। ওই বছরের জেলা ও শহর বিএনপির সম্মেলনের স্থগিতাদেশ চেয়ে কোর্টে মামলাও করেছিলেন সাখাওয়াত ও টিপু। এবার তারাও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের বিরোধীতা করে মাঠে নেমেছেন।
২০১৩ সালে বিএনপির দল ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রকারী দল বিএনএফ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক হোন আবু আল ইউসুফ খান টিপু। ওই কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধান। একই সঙ্গে বিএনপির দল ভাঙ্গার ঘোষণা দিয়ে বিদিশা ফাউন্ডেশন গঠন করেছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্ত্রী বিদিশা এরশাদ।
ওই বিদিশা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে জড়িত হোন টিপু ও আনোয়ার প্রধান। বিদিশার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকের ছবি প্রকাশিত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ মাসদাইরে বিদিশাকে প্রধান অতিথি করে অনুষ্ঠানও করেছিলেন আনোয়ার প্রধান। সেই বিএনপির বিরোধীতাকারী বিএনপি ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রকারীরা আজকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাসুদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
একইভাবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর বিরোধীতা করছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি আবু জাফর আহমেদ বাবুল। যিনি গত ১৭ বছরের বিএনপির কোনো আন্দোলন সংগ্রাম তো দূরের বিএনপির একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনও করেননি। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বিএনপি নেতা পরিচয়ে রাজনীতিতে উদয় হোন আবু জাফর আহমেদ বাবুল। তিনি শুরুতেই নারায়ণগঞ্জে প্রচার করতে থাকেন তার মেয়ে জামাতা তারেক রহমানের পিএস। তার মাধ্যমে অঢেল টাকা দিয়ে তিনিই মনোনয়ন ভাগিয়ে আনবেন। কিন্তু আজায়গায় হয়তো বাবুল অঢেল টাকা খরচ করেছেন। মনোনয়ন না পেয়ে দিশেহারা হয়ে তিনিও ধানের শীষের বিরোধীতা করছেন।




