নারায়ণগঞ্জ শহরের চানমারী এলাকায় দিন–রাত ২৪ ঘণ্টা অবাধে মাদক বেচাকেনার অভিযোগ ব্যাপকভাবে প্রচার হলেও কার্যকরী কোন কোন ব্যবস্থা না নেয়ার গুঞ্জন রয়েছে।
বিস্ময়কর হলেও সত্য, এই মাদক কারবার চলছে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাত্র ৫০ গজ দূরেই।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে মাদকসেবীদের কাছে হেরোইন, গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি করা হচ্ছে, যেন এটি একটি বৈধ বাজার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে রাত এবং রাত থেকে সকাল—শিফটভিত্তিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে এই মাদক ব্যবসা।
চানমারীতে প্রবেশ করলেই দেখা যায়, হাতে টাকা নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন মাদকসেবীরা। প্রকাশ্যেই চলছে মাদকের কেনাবেচা।
এমনকি ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড পর্যন্ত এই মাদক হাট বিস্তৃত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল থাকলেও কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। টহল দল এলাকায় প্রবেশ করলে সাময়িকভাবে ব্যবসা বন্ধ রাখলেও পরে আবার শুরু হয় আগের মতোই।
স্থানীয়দের ভাষ্য, টহলের সময় অনেক ক্ষেত্রে মাদককারবারীরা প্রশাসনের উপস্থিতিকে উপহাস করতেও দেখা যায়।
চানমারীর বিভিন্ন অলিগলিতে গড়ে উঠেছে মাদকের নিরাপদ স্পট। গোডাউন, রিকশা গ্যারেজ, এমনকি বাসা–বাড়িতেও গোপনে পরিচালিত হচ্ছে মাদক সেবন ও বিক্রির কার্যক্রম। এসব স্থানে নিয়মিত যাতায়াত করছেন কলেজ শিক্ষার্থী, হকার, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মাদক চক্র এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের মধ্যে শরীফ ও রুমি নামের দুইজনকে ‘মাদক সম্রাট’ ও ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তারা আত্মগোপনে থেকে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় চানমারীর ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক নাসির হোসেন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পরও মাদক ব্যবসা বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
চানমারী এলাকার বাসিন্দারা জানান, মাদকের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং হত্যাকাণ্ড বেড়ে গেছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পরও এভাবে প্রকাশ্যে মাদক বাণিজ্য চলতে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে।
দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সর্বসাধারণ।
সংগৃহিত



