ষ্টাফ রিপোর্টার:
ফতুল্লা মডেল থানায় গত আগষ্ট মাসের ৩১ দিনে ৫২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে যার মধ্যে মাদক সংক্রান্ত মামলা ৭টি, হত্যা ১টি,নারী ও শিশু সংক্রান্ত ৮টি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া জিআর মামলায় ৪৩টি এবং সিআর মামলার ৩৮টি ওয়ারেন্ট তামিল করা হয়েছে। এ সময়ে থানা পুলিশের অভিযোনে ২শত গ্রাম গাজাঁ এবং ১০০পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ফতুল্লা থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ কেজি ৫০ গ্রাম গাজাঁ এবং ২৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে আর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর কর্তৃক মোট মাদক উদ্ধারের অভিযান পরিচালনা হয়নি ফতুল্লা মডেল থানাধীন এলাকাতে।
এদিকে প্রায় ৭ লক্ষাধিক লোকের বসবাস ফতুল্লা মডেল থানা এলাকাগুলো ভাসমান লোকের সংখ্যাই বেশী। শিল্পাঞ্চল খ্যাত থানা এলাকার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা মাদকের অভয়ারন্যে হলেও থানা পুলিশ কর্তৃক ৩১ দিনে মাত্র ২শত গ্রাম গাজাঁ ও ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারকে অভাবনীয় সাফল্যে বলে উল্লেখ করছেন থানা এলাকায় বসবাসকারীরা। যা বিগত ১০ বছরের মধ্যে পুলিশ অন্যতম সাফল্যে। ফতুল্লা থানাধীন প্রতিটি পাড়া-মহল্লাতে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মরননেশা বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। সেখানে একমাসে যৎসামান্য মাদক উদ্ধার স্থানীয়দের মতে সাধারন মানুষের সাথে তামাশা করার সামিল এবং মাদক উদ্ধারে পুলিশের একেবারে নিরবতাকে সমাজের বিচক্ষন মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে।
ফতুল্লা দাপা ও ষ্টেশন এলাকার অনেক বাসিন্দা বলেন, গত এক মাসের পুলিশের মাদক উদ্ধার সত্যিই হাস্যকর। অত্র এলাকার প্রতিটি অলিগলিতে হাত-বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মাদক। এখানে হাতে গোনা কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে যারা প্রতিটি অন্তত ২শত কেজি গাজাঁ ও কয়েক হাজার পিস ইয়াবা বিক্রি করছেন প্রকাশ্যে। এছাড়াও ফেন্সিডিল এবং হেরোইনতো রয়েছেই। তবে মাদকের সয়লাভ রোধে পুলিশের ভুমিকা যে প্রশ্নবিদ্ধ তা আগষ্ট মাসে থানা পুলিশের উদ্ধারে মাদকের পরিমানেই বোঝা যাচ্ছে।
তারা আরও বলেন,থানাধীন প্রতিটি পাড়া-মহল্লাগুলোতে বর্তমানে যত প্রকার অঘটন ঘটছে তার মুলে রয়েছে মাদকের অবাধ ব্যবহার। মাদক সেবন এবং মাদক ক্রয়ের টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় চুরি-ছিনতাইসহ নানাবিধ অপরাধের মুলে এ মাদক। আর মাদক বিক্রেতাদেরকে শেল্টারদাতা হিসেবে তালিকায় রয়েছে রাজনৈতিক দলের নেতা,সমাজপতি,পুলিশের সোর্স এবং বিশেষ কিছু ব্যক্তি। মাদক ব্যবসায়ী এবং উক্ত শেল্টারদাতারা রাতারাতি কোটিপতি হলে ক্রমেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে যাচ্ছে যুবসমাজ এবং স্বপ্নচারী সেই সকল অভিভাবক যারা সন্তানদের নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন।
থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারীরা জানান, এলাকাগুলো পুলিশের তৎপরতা নেই বললেই চলে। যারফলে মাদক বিক্রেতারা আরো উৎফুল্ল কারন তাদেরকে বাধা দেয়ার কেউ নেই। আবার পরিবার-পরিবারের কথা ভেবে অনেক শান্তিপ্রিয় মানুষগুলো প্রতিবাদের মুখটি ঘুরিয়ে নিয়েছেন। তবে এভাবে চলতে থাকলে সমাজের অবস্থা আরও নাজুক হবে বলে অভিমত সাধারন মানুষের। মাদক উদ্ধার এবং মাদক বিক্রেতাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় না নেয়া হলে এর দায় সবার উপরেই বর্তাবে এমনটাই বলছেন সমাজের শান্তিপ্রিয় সাধারন মানুষ।
তবে পুরো ফতুল্লা থানাধীন এলাকাতে মাদক বিরোধী অভিযান অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে। এ জন্য ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে আরো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার আহবান জানান থানাধীন এলাকায় বসবাসকারী সাধারন মানুষ।




