নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল শিক্ষিকার বাসায় হামলা–লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর গণ–অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. আরিফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর মেয়ে তানজিলা ইসলাম।
স্কুল শিক্ষিকা রেশমা আক্তার বলেন, বিগত সময়ে আমার সাবেক স্বামী তাজুল ইসলাম আমার ৪.৫ শতাংশ জমির উপর নির্মিত বাড়ি নিজের বলে দাবি করে বিক্রি করার চেষ্টা করে। যা আদালতে মামলা চলমান। আমার এই সম্পত্তি তাজুল ইসলামের কাছ থেকে অভিযুক্ত আরিফ ভূঁইয়া ও আব্দুল কাদির বায়না করেছে দাবি করে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমার ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, পাসপোর্ট, ব্যংকের চেক বই, জমির দলিল, বিদ্যুৎ বিল, সার্টিফিকেট সহ জরুরী সকল কাগজপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এসময় তারা আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলেছে এবং প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করেছে। এছাড়া আমাকে ও আমার সন্তানদের বাড়ি ছেড়ে দিতে শাসিয়ে গেছে।
কান্না কন্ঠে এই ভুক্তভোগী নারী আরো বলেন, আমি একজন শিক্ষিকা। আমরা যদি দলিয় পরিচয়ে নেতা–কর্মীদের দ্বারা নির্যাতিত হই, তাহলে আমরা কোথায় যাবো? কার কাছে বিচার চাইবো? আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমন নেক্কারজনক কর্মকান্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।
স্কুলশিক্ষিকার মেয়ে তানজিলা ইসলাম বলেন, হামলার সময় বাসায় আমি একা ছিলাম। অভিযুক্তরা অজ্ঞাত আরো অনেকজন মোটরসাইকেলযোগে এসে প্রথমে আমাদের বাসার সামনে তাদের নামে সাইনবোর্ড স্থাপন করে। আমি বাধা দিলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে হুমকি–ধামকি দেয়। এক পর্যায়ে আমাদের ঘরে ঢুকে আলমারি ভেঙে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
এদিকে অভিযুক্ত আরিফ ভূঁইয়া হামলা–লুটপাটের অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে বলেন, এই জমিটি তাজুল ইসলামের। তার কাছ থেকে আমরা রেজিষ্ট্রি বায়না করেছি। সেই সূত্রে আমরা সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছি। তবে ওই স্কুল শিক্ষিকার বাসায় কেউ হামলা–লুটপাট করেনি কিংবা ভাঙচুরও করেনি। এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই ইলিয়াছ খাঁন জানান, অভিযোগ হাতে পাইনি। পেলে তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




