ষ্টাফ রিপোর্টার:
মো.আকাশ। দেখতে একেবারে সাধারন কিংবা মুখে দাড়িতে পরিপুর্ন। কেউ হয়তবা তাকে দেখলে কোন তাবলিগ সদস্য মনে করতে পারে। কিন্তু এ সুন্নতি বেশে মরননেশা মাদক বিক্রি করে পারলিকের বারোটা বাজিয়ে নিজে অগাধ সম্পদের মালিক হয়েছেন রাতারাতি। চলাচল করছেন প্রায় ৫ লাখ টাকা দামের হোন্ডা দিয়ে।
হ্যাঁ এই সেই আকাশ যিনি জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে প্রায় দেড়শত গজ দুরেই প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে তার সহযোগিদের দিয়ে। জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যেই দিবারাত্রি মাদক বিক্রি করছেন আর উভয় প্রশাসন যেন নাকে “সুরেশ সরিষার” তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।
ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা যায়,ফতুল্লা ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতার প্রত্যক্ষ শেল্টারেই দিনের পর দিন প্রশাসনের চোখের সামনেই জেলা পরিষদের সামনে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে এ আকাশ। উক্ত এলাকায় দিনের আলোতে এভাবে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করা যেন ভাবিয়ে তুলেছে সাধারন মানুষ এবং অভিভাবক মহলকে। তবে মাদক বিক্রির একাধিক ভিডিও চিত্রে দেখা যায় কোন প্রকার বাধাহীনভাবেই আকাশের সহযোদ্ধারা মাদক বিক্রি করছে। শুধু জেলা পরিষদের সামনেই নয় উক্ত শেল্টারদাতা বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় ইসদাইর রেললাইন এলাকাতেও এরুপ প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে আকাশ বাহিনীর সদস্যরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “নিরবতাই সম্মতির লক্ষন” জেলা প্রশাসকের এবং জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাত্র সামান্য দুরত্বের মাঝেই আকাশ বাহিনীর সদস্যরা যেভাবে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে তাতে মনে হয় দুটি প্রশাসনের সবাই ম্যানেজ হয়েছেন। যদি না হয়ে থাকে তাহলে তারা উভয়েই তো এ পথ দিয়ে যাতায়াতের সময় দৃষ্টিতে পড়ার কথা। তাছাড়া টহল পুলিশের সদস্যরাই বা কি করেন ? তারা আরও বলেন,ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের এক কনষ্টেবল প্রতিটি মাদক স্পট থেকে তাদের উর্ধতন কর্তাদের নামে টাকা তোলেন। বর্তমানে নাকি সেই কনষ্টেবলকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তারপরও থেমে নেই উক্ত কনষ্টেবলের মাদকের মাসোহারা। তারস্থলে আসা নতুন কনষ্টেবলও নাকি টাকা তুলছেন তাদের স্যারদের জন্য এমনটাও বললেন সেখানকার সাধারন মানুষ।
তারা আরও বলেন,৫ আগষ্টের পর নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে তেমন কোন কঠোর মনোভাব দেখায় নি। যার ফলে মাদকের প্রবনতা এতটাই বেড়েছে যে সাধারন মানুষের ঘরের দরজার সামনে মাদক বিক্রি করলেও কোন প্রতবাদ করতে সাহস পাচ্ছেনা ভুক্তভোগীরা।
তারা জানান,উক্ত বিএনপি নেতার মদদে আকাশ ও তার বাহিনীর সদস্যরা জেলা পরিষদের সামনে এবং ইসদাইর এলাকাটি মাদকের অভয়ারন্যে পরিনত করে তুলেছে। থানা পুলিশের নিরবতা এবং অর্থলোভী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সমাজপতিরা যেন মাদকের সেই অবৈধ টাকার কাছে নিজেকে সোপর্দ করে ফেলেছেন। তাই মাদকের বিরুদ্ধে প্রতবাদ কিংবা প্রতিরোধ রবং নিরবতা ভুমিকা পালনে তারা মাদক ব্যবসায়ীদের আরো উৎসাহ প্রদান করছেন বলে অভিমত স্থানীয়দের।
জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে মাত্র দেড়শত গজ দুরে গড়ে উঠা মাদক বিক্রেতা আকাশ ও তার বাহিনীর মাদক স্পটটি ধ্বংস এবং আকাশ ও তার বাহিনীকে দ্রুত গ্রেফতারে সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় বাসিন্দাগন।




