ছাত্র হত্যাসহ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হামলার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলার আসামি তিনি! মামলা গুলোর মধ্যে কয়েকটিতে প্রাথমিক ভাবে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় আদালতে চার্জশিটও দিয়েছেন জমা। অথচ, এতগুলা মামলার আসামি হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ নাকি তাকে খোঁজে পাচ্ছেন না! বরাবরের মতই রয়ে যাচ্ছেন ধরাছোয়ার বাইরে আর থেকে যাচ্ছেন বহাল তরিয়তে!
এমনকি, নিয়মিত আদায় করছেন চাঁদা, নিয়ন্ত্রন করছেন ঝুঁট সেক্টর, করে যাচ্ছেন জমি দখল, আবার খাচ্ছেন নিয়মিত মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা! এক ডজনেরও বেশি মামলা থাকলেও বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নিজ এলাকায় এবং চালিয়ে আসছেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড!
এত গুনে গুণান্নিত ব্যাক্তিটি হচ্ছেন এনায়েতনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বিল্লাল হোসেন!
যেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে চলছে পুলিশের নিয়মিত অভিযান। অথচ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা বিল্লালের বিরুদ্ধে এত মামলা থাকা স্বত্ত্বেও তার প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোটা সত্যিই রহস্যের জন্ম দিচ্ছে!
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই নাকি বিল্লাল হোসেন এলাকায় অবস্থান করছেন। এমনকি, বিল্লাল তার অপরাধের রাজত্ব নিয়ন্ত্রনে সহযোগিতা নিচ্ছেন কতিপয় বিএনপি নেতাদের!
তবে, ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহাবুব হোসেন বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতা কিংবা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বিল্লাল একাধিক মামলার আসামি এটা সত্য। এই বিল্লালকে গ্রেপ্তারে তার বাড়িতে একাধিক বার পুলিশি অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে বিল্লালকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এদিকে, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বিল্লালের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার পরও কিভাবে এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন প্রশ্ন বার বারই ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় সাধারন মানুষ এবং বিএনপি নেতা কর্মীদের মাঝে?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিএনপির কর্মীরা জানান, স্থানীয় পঞ্চায়েত মাতবর আলী সর্দার এবং যুবদল নেতা মনিরের প্রত্যক্ষ শেল্টারে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বিল্লাল এখনো এলাকায় সেফ জোন- এ থেকে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। আর আমরা এতটাই দুর্ভাগা যে, স্বেরাচার হাসিনা সরকারের আমলে এই বিল্লালের অত্যাচারে এলাকা ছেড়ে থাকতে হয়েছে অর্ণ্যত্র আর আজকে নিজের দল ক্ষমতায় থাকার পরও কোনঠাসা হয়ে এলাকায় বসবাস করতে হচ্ছে! এ কষ্টের কথা আমরা কাকে বলব??
কারন হিসেবে বিএনপি কর্মীরা উল্লেখ্য করেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বিল্লালের উপর রয়েছে, কতিপয় বিএনপি নেতাদের আর্শিবাদ! যারা কিনা আর্থিক সুবিধা গ্রহনের মাধ্যমে স্বেরাচার দোসরদের কাছে নিজেদের বিবেক বিসর্জন দিয়েছেন! যাই হউক বিষয়টি বিএনপির হাই কমান্ড গুরুত্ব সহকারে হস্তক্ষেপ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করি।
সেই সাথে হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বিল্লালকে গ্রেপ্তারের জন্য স্থানীয় থানা পুলিশের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বিল্লালের আত্মপক্ষ সমর্থন নেওয়ার জন্য তার মোবাইলে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে, স্থানীয় পঞ্চায়েতে মাতবর আলী সর্দার বলেন, বিল্লালের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি। এখন আর আমার বিল্লালের সাথে যোগাযোগ নেই।
সুত্র: যুগের নারায়ণগঞ্জ




