ষ্টাফ রিপোর্টার: সকল কিছু চলছে সেই স্বৈরচারী সরকারের স্ট্যাইলে। কলকাঠিও নাড়ছে স্বৈরচারী সরকারের কিছু নেতা। পূর্বের তুলনায় চাঁদাবাজি আরো দ্বিগুন হয়েছে। ৫ আগস্টের পর দোসররা পালিয়ে গেলে দখলে নেই বিএনপির নেতারা। খেয়াঘাট স্ট্যান্ডের সাথে যোগ করেছে রুপালী গেইটমুখি মিশুক স্ট্যান্ড। সিটি করপোরেশন টোল আদায় বন্ধ থাকলেও স্ট্যান্ডের নীরব চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হলেও কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
তবে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার হুশিয়ারি করেছেন ওসি গোলাম মোক্তার আশরাফ। তিনি বলেন
নাসিক প্রশাসক, নির্বাহী কর্মকর্তা আছে। দখলমুক্ত করতে অচিরেই আমরা যৌথভাবে এবং কঠোর অবস্থানে গিয়ে অভিযান দিব। জনগণের স্বার্থে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ সহ জরিতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন বন্দর থানা পুলিশের পরিদর্শক মোঃ গোলাম মোস্তফা।
তিনি আরো বলেন, শহরে দখলমুক্ত করতে নাসিক প্রশাসককে যেমন সার্বিক সহায়তা করেছে পুলিশ। অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বন্দর থানা প্রশাসন সর্ব্বোচ ও কঠোর অবস্থানে গিয়ে যৌথভাবে অভিযান দিব।
নারায়ণগঞ্জ বন্দর ১নং সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এখন বহুরুপীয় চাদাবাজদের নিয়ন্ত্রনে। খেয়াঘাটের যাত্রী ছাউনী দখল করে দোকান বসিয়ে চলছে চাদাবাজি। বেবিষ্ট্যান্ডের একপাশে রয়েছে অবৈধ বাজার ও রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে মোটা অংকের চাদাবাজি করছে বিএনপির একটি প্রভাবশালী চক্র। সরকার পতনের পর একটি চক্র চাদাবাজদের সাথে মিলে অবৈধ এই চাদাবাজির ঘটনাটি আড়াল করতে সুবিধা নিচ্ছে বলে জানাগেছে।
সম্প্রতি বন্দর ঘাট থেকে চাদাবাজি করার সময় সোহাগ নামে এক চাদাবাজকে বন্দর থানা পুলিশ আটক করে চাদাবাজির মামলায় আদালতে প্রেরন করেছিল।
এ ব্যাপারে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারন জনতা ও ভূক্তভোগী যাত্রী সাধারন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা জানান,স্বৈরাচার সরকার পতন হয়েছে। বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষে ছাত্র সমাজ জীবন দিয়েছে। অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। বন্দর খেয়াঘাটে যাত্রী ছাউনীতে যাত্রীরা চলাচল করবে। এখানে ক্লান্ত পথচারীরা বিশ্রাম নিবে। অথচ রাজনৈতিক পরিচয়ে কতিপয় চাদাবাজরা যাত্রী ছাউনীতে দোকান বসিয়ে চাদাবাজি করছে। জনভোগান্তি সৃষ্টি করছে। তাহলে দিনশেষে কি দাড়ালো? বৈষম্য হীন সমাজ গড়তে ছাত্রসমাজ রক্ত দিল,প্রান দিল কিন্তু বৈষম্য রয়েই গেল। এই চাদাবাজদের আইনের আওতায় আনতে আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
তথ্যসুত্রে জানা গেছে,বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তোপের মূখে স্বৈরাচারী সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরপরই নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে যায় বন্দর বেবিষ্ট্যান্ড ও সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি ও ছাত্রলীগ নেতা খান মাসুদ। সরকার পতনের পর বন্দর ষ্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
জনভোগান্তি সৃষ্টি করে অবৈধভাবে চলছে এ চাঁদাবাজি। এছাড়াও বন্দর ১নং সেন্টাল খেয়া ঘাটের নদীর পূর্ব পাড়ে ইজারার নামে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা অবৈধ ইজিবাইক থেকে চাঁদাবাজি করছেন বিএনপি পরিচয় দানকারী একটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট।
এ বিষয়ে একজন ইজিবাইক চালক জানান, আমরা প্রতিদিন ২০টাকা করে চাঁদা দেই। আমাদের এখানে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ অটো চলাচল করে। বন্দর ঘাটের সামনে আসলেই তাদের ২০ টাকা করে দিতে হয়। তারা স্থায়ী লোক তাদের টাকা না দিলে এখানে গাড়ি রাখতে দেয়না এবং মারধর করে।
এ বিষয়ে একজন মিশুক চালক বলেন,এখানে ৩০০ থেকে ৪০০ মিশুক গাড়ি চলে। টোকেন এন মাধ্যমে ২০ টাকা করে নিয়ে যায়। বন্দর বাজারের সামনের থেকে এই টাকা তুলে। তিনি আরও জানান, সড়কে গাড়ি চালাতে হলে তাদের ২০ টাকা করে দিতে হয়, টাকা না দিলে মারধর করে। অনেক সময় চাকা ফুটা করে দেয়।
এ বিষয়ে খেয়া ঘাট এলাকার স্থায়ী কয়েকজন জানান, আগের সরকারের আমলে খান মাসুদ একক নিয়ন্ত্রন করতো। এখন তো নেতার অভাব নাই। বিএনপি নেতার প্রভাব দেখিয়ে এখানে একটি সিন্ডিকেট চাঁদাবাজি করেন। আমরা জানি তারা সিএনজি স্ট্যান্ড সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেন্ডার আনেন কিন্তু সিএনজি স্ট্যান্ডের ট্রেন্ডার এনে তারা ব্যাটারী চালিত অটো রিকশা ও মিশুক থেকে ২০ টাকা করে তুলেন। তবে চলতি বছর টেন্ডার হলেও নাসিক প্রশাসক পরে তা বন্ধ করে দেয়।
এ বিষয়ে নাসিক প্রশাসক এড.শাখাওয়াত হোসেন খানের মোবাইল নাম্বারে ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি।
এই স্ট্যান্ডে রয়েছে বিশাল এক সিন্ডিকেট। বন্দর থানা যুবদল নেতা——সহ কয়েকজন মিলে এই অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো থেকে তাদের লোক দিয়ে চাঁদা তুলেন।
তথ্যমতে,বন্দর ১নং খেয়া ঘাটে ২শত থেকে ৩শত ব্যাটারী চালিত অটো চলে।২০ টাকা করে ৩শত অটো থেকে প্রতিদিন ৬হাজার টাকা চাঁদা তুলা হয়। যার বছরে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা তোলা হয়। এবং মিশুক থেকে প্রতিদিন ৮ হাজার টাকা চাঁদা উঠানো হয়। বছরে মিশুক থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদা তুলা হয়। আর অবৈধ দোকান রয়েছে দেড় শতাধিক। প্রতিদিন দোকান ভাড়া বিদ্যুৎসহ প্রায় ২০ হাজার টাকার মতো উঠানো হয়। তাছাড়াও বৈধ ইজারার সিএনজির স্ট্যান্ড থেকে বছরের ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা তোলা হয়। বছরে এই অর্ধ কোটি টাকা বিএনপি পরিচয়দানকারী চাঁদাবাজদের পকেটে যায়। এ ব্যাপারে প্রশাসন নিরব ভূমিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।




