ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এনসিসি ১০ নং ওয়ার্ডের এসিআই পানির ফল সংলগ্ন এলাকায় পারিবারিক বিষয়ে ঝগড়ার পর রবিনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনার মামলার পর প্রায় ২০দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি থানা পুলিশ। তবে আসামীরা এলাকায় অবস্থান করলেও তাদেরকে গ্রেফতার না করার ফলে অনেকটাই নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে ভুক্তভোগির পরিবারের সদস্যরা।
এজাহারে সিরাজ মিয়ার ছেলে মো.আনু উল্লেখ করেন যে, বন্দরের বক্তারকান্দি আমিরাবাদ বালুরমাঠ সংলগ্ন এলাকার টারজেন মিয়ার মেয়ে শান্তার সাথে ৬ বছর পুর্বে আমার ছেলে রবিনের সাথে বিবাহ হয় এবং তাদের সাংসারিক জীবনে ২টি ছেলে সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর থেকে ছেলে এবং ছেলের বউয়ের যাবতীয় খরচাদি আমি নিজেই বহন করতাম। এ নিয়ে আমার ছেলে সাথে ছেলের বউয়ের প্রায় সময় ঝগড়া হতো। ছেলের বউয়ের সাথে আমার ছেলে মাঝে-মধ্যে ঝগড়া হলে তা তার ভাই শাওনকে ডেকে এনে আমার ছেলেকে মারধরসহ বিভিন্নভাবে হুমকী প্রদান করতো। প্রায় ৮ মাস পুর্বে ১ নং বিবাদী আমার বাড়িতে এসে তার বোন ২নং বিবাদীকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর প্রায় ৮ মাস চেষ্টা করেও ২ নং বিবাদী শান্তাকে আমার বাড়িতে আনতে ব্যর্থ হই এবং ২নং বিবাদী আমার ছেলের সাথে সংসার করবেনা বলেও জানায়। যারফলে তার ভরনপোষনের যাবতীয় খরচাদি আমার ছেলে পাঠিয়ে দিত। ব্যক্তিগত জীবনে অশান্তি থাকার ফলে আমার ছেলে প্রায় ৩ মাস পুর্বে ২য় বিয়ে করে। এরপর থেকেই ১ ও ২ নং বিবাদী আমার ছেলেকে হত্যা করার জন্য সুযোগে ছিল। এ বিষয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সমাধানের চেষ্টা করলেও বিবাদীদ্বয় সমাধানে আসতে চায়নি।
এর জেরে গত ২৪ জুন দুপুর ১২টায় ১০নং ওয়ার্ডস্থ এসিআই পানির ফল সংলগ্ন আমার বসত ঘরে ও উঠানে ১নং ও ২নং বিবাদীয় সহ অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা বেআইনী জনতাবদ্ধে অনধিকার প্রবেশ করিয়া একই উদ্দেশ্যে হাতে ধারালো ছুরি নিয়া আমার ছেলের উপর হামলা করে। এ সময় ১নং বিবাদী ২ বিবাদীর সহযোগীতায় ১নং বিবাদীর হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ছেলের পেটে নাভি, পাশে, বুকে ও বাম হাতের আগুলে একাধিক আঘাত করিয়া গুরুতর কাটার রক্তাক্ত জখম করে। ১নং বিবাদীর ছুরির আঘাতে আমার ছেলের খাদ্যনালি কাটায় আমার ছেলে জ্ঞানহীন হয়ে পড়লে বিবাদীদ্বয় আমার ছেলেকে মৃত দেবে ফেলে রেখে আমার ২ নাতিকে নিয়ে চলে যায়। ছেলেকে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় আমি আমার ছেলের বউ এবং তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে এশটি মামলা দায়ের করি। যার নং ৩৯ ( ২০/৭/২৬ইং)। ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৫০৬(২)৩৪ প্যানেল কোড।
এদিকে মামলার বাদী মো.আনু বলেন,আমার ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনার মামলার প্রায় ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করেনি। বরং পুলিশের অবহেলার কারনে উল্টো আসামী পক্ষ আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকী প্রদান করছে মামলা উঠিয়ে নেয়া জন্য। যদি না উঠাই তাহলে ভবিষ্যতে আমার খারাপ পরিনাম ভোগ করার জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলছে আসামীরা।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান,আসামীদেরকে অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে। তবে একটু সঠিক সংবাদ আমাকে দিলেও আসামীকে দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব।




