ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বন্দর থানা শাখার দায়িত্বশীল জাহিদুল ওইসলাম বুলবুল হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি এবং তাঁর পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতার দাবিতে আজ ২৩ আগস্ট রবিবার ডিসি বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি মাও. দ্বীন ইসলাম বলেন, অত্যন্ত দুঃখ ও গভীর ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, স্বৈরশাসকের পতনের পর গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচিত একটি সরকারের আমলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বন্দর থানা শাখার দায়িত্বশীল জাহিদুল ইসলাম বুলবুল নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। একজন তরুণ রাজনৈতিক কর্মীকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও উদ্বেগজনক। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও সর্বস্তরের নারায়ণগঞ্জবাসী গভীরভাবে মর্মাহত।
আমরা বিশ্বাস করি, একটি মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া শুধু একটি পরিবারের ওপর আঘাত নয়; এটি সমাজের নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের ওপরও আঘাত। তাই এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
একই সঙ্গে বুলবুল ভাইয়ের পরিবারের বিষয়টিও আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। তিনি তাঁর পরিবারের জন্য ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন অভিভাবক। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি কঠিন অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে তাঁর একজন কন্যাশিশু ও একজন পুত্রসন্তানের ভবিষ্যৎ শিক্ষা, চিকিৎসা ও লালন-পালন নিয়ে পরিবারটি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। এই দুই শিশুর ভবিষ্যৎ যেন অন্ধকারে হারিয়ে না যায়, সে দায়িত্ব আমাদের সবার।
অতএব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর-এর পক্ষ থেকে আমরা নিম্নোক্ত দাবিসমূহ জানাচ্ছি—
১. জাহিদুল ইসলাম বুলবুল হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।
২. নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা এবং এর নেপথ্যে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে।
৩. হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৪. কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হলে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৫. দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করতে হবে
৬. নিহত জাহিদুল ইসলাম বুলবুলের পরিবারকে সরকারি ও প্রশাসনিকভাবে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।
৭. তাঁর কন্যাশিশু ও পুত্রসন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের জন্য বিশেষ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
৮. দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের সরকারি কল্যাণমূলক কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে।
৯. নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—বুলবুল হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ন্যায়বিচারের দাবি থেকে আমরা সরে যাব না। আমরা প্রতিহিংসা নয়, আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই। একই সঙ্গে আমরা চাই, বুলবুল ভাইয়ের অসহায় পরিবার ও তাঁর দুই নিষ্পাপ সন্তানের পাশে রাষ্ট্র ও সমাজ মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিক।
একজন পিতাকে হারানোর শূন্যতা কোনো সহায়তা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে তাঁর সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্ব নেওয়া আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।
পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের দাবিসমূহ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত কাজ সমাপ্তে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করবেন বলে আমরা আশাবাদী




