ইব্রাহিম বাহিনীর কাছে জিম্মি কুতুবপুরের একাংশ, দল বদলালেও বদলায়নি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড,
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুরে আরও হিংস্র ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসী ‘ইব্রাহিম বাহিনী’। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের বিদায়ের পর নতুন রাজনৈতিক নেতার সরাসরি আশ্রয়ে এই বাহিনী এখন কুতুবপুরজুড়ে কায়েম করেছে ত্রাসের রাজত্ব। চাঁদাবাজি, দখলদারি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকার সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইব্রাহিম আগে কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের প্রধান ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সে সময় যুবলীগের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন তিনি। তবে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অতি দ্রত খোলস পাল্টে ফেলেন ইব্রাহিম। ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুর বলয়ে ভিড়ে নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।
দলীয় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদ না থাকলেও এই বিএনপি নেতার সরাসরি মদদে ও ছত্রছায়ায় ইব্রাহিম তার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণে এই বাহিনীর বেপরোয়া ভাব পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ী, বাড়িওয়ালা থেকে শুরু করে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এখন এই বাহিনীর নিয়মিত চাঁদা দাবির শিকার।
কুতুবপুরের বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাজনৈতিক দলের নাম ও ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুধু হাতবদল হয়ে সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচার আরও তীব্র হয়েছে। কোনো অন্যায়-অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে গেলে কিংবা আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে সাধারণ মানুষকে শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে এবং এই ক্যাডার বাহিনীকে আইনের আওতায় আনতে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও জেলা পুলিশের আকুল আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।




