মন্ত্রণালয়ের তদন্তের নির্দেশ উপেক্ষিত
ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয়কে ঘিরে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ২ জনের বিরুদ্ধে। এরা হলেন, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এবং জুনিয়র মেকানিক নূরে আলম। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব সুজিৎ দেবনাথ গত ৩/০২/২৬ইং তারিখ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে এবং নুরে আলমের বিরুদ্ধে গত ৯/১১/২৫ ইং তারিখ পত্রের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কে তদন্ত করার নির্দেশ দিলেও রহস্য জনক কারনে আমিনুল ইসলাম ও নুরে আলমের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের তদন্তের আলো দেখেনি।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের নথিতে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পৃথক দুটি অভিযোগের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়।
তবে রহস্যজনক কারনে উক্ত ২ টি অভিযোগের তদন্ত সীলগালা করে রাখা হয়েছে।
প্রথম অভিযোগে মোঃ আলাউদ্দিন, তাসলিমা, নাজমা বেগম, নারায়ণগঞ্জ সদর, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ-এর নাম অভিযোগকারী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
ওই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় অভিযোগে মো. মাসুদ, রবিউল মাসুদ, রবিউল ও আয়াত পারভীন অভিযোগকারী হিসেবে উল্লেখ রয়েছেন।
তাদের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জুনিয়র মেকানিক নূরে আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া একই নথিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত বিষয়েও অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। একটি অভিযোগে বিনা কারণে চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের পুনর্বহাল এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে যাচাই-বাছাই/তদন্ত করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
সরকারি নথিতে অভিযোগের বিষয়টি উঠে আসায় নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্য প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে চিঠিতে উল্লিখিত অভিযোগ এখনো তদন্ত করা হয়নি রহস্যজনক কারনে।
এ ঘটনায় অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, নথিপত্র যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।




