লিয়াকত হোসাইন লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি \ জামালপুরের ইসলামপুরে দশানী নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। ভাঙ্গনে হুমকির মূখে পড়েছে সাজেলের চর বাজার ও তিন উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র ব্রীজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নে ডাকপাড়া,টেংরাকুড়া গ্রামের নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের মানুষ চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কৃষকদের বছরে একমাত্র অবলম্বন ফসলি জমিও একের পর এক নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে। বসতবাড়ী,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হুমকির মধ্য রয়েছে। অন্যদিকে, উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের সাজেলেরচর বাজার সংলগ্ন নদী তীরবর্তী মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্ক নেমে এসেছে। দশানী নদীর অব্যাহত ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে ঐতিহ্যবাহী সাজেলেরচর বাজার, সংযোগ সড়ক এবং নদী তীরবর্তী বহু বসতবাড়ী। এছাড়াও বাজার ভেদ করে তিন উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র সংযোগ ব্রীজটির এপ্রোচের মাটি সরে গিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিসহ প্রতিনিয়তই চলাচলে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে ব্রীজ ভেঙে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রীজে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ী কালাম মিয়া বলেন,দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ সড়কে চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এতে আমরা কর্মহীন হয়ে যাবে। স্থানীয় শিক্ষক মো. শাহিন ইসলাম বলেন, নদী ভাঙন এভাবে চলতে থাকলে আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও হুমকির মুখে পড়বে। দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়া না হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হবে।
স্থানীয় ও জন প্রতিনিধিরা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দশানী নদীর ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এখনো স্থায়ীভাবে নদী সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। দ্রুত ভাঙ্গন প্রতিরোধ ও ব্রীজটি সংস্কার না হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে যাবে। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোঃ জুবায়ের জানান,”আমরা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।




