সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : এক ডজন বৈষম্য মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতা হওয়া সত্বেও চিটাগাং রোডের ভূমি পল্লীতে বহাল তবিয়তে বসবাস করছেন সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও নাসিক ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন। সাদ্দাম হোসেন সুমিলপাড়া মুনলাইট পশ্চিম এলাকার রওশন আলীর ছেলে। স্বৈরাচারের পতন ঘটে দুই সরকার ক্ষতমতায় বসলেও তার টিকি স্পর্শ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে বিগত আওয়ামী শাসনামলে বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দ ও অসহায় মানুষের উপর নির্যাতন চালানো আজমেরী ওসমানের সহযোগী সাদ্দাম হোসেন বর্তমানে তার ভাই সহ বিএনপি দলীয় মুষ্টিময় কয়েকজন নেতাকর্মীকে ম্যানেজের মাধ্যমে দিব্বিভাবে চলাফেরা করে যাচ্ছেন। এছাড়াও এলাকায় থেকে তিনি আওয়ামী লীগকে পূর্ণবাসনের গোপন তৎপরতা চালানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ লম্বা সময়ে সাদ্দাম হোসেন দলীয় প্রভাব খাঁটিয়ে (নাসিক) ৬নং ওয়ার্ডে আশপাশের কয়েকটি এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতেন।
তার বিরুদ্ধে লুটপাট, মানুষের জমি দখল ও তেল ডিপোতে চাঁদাবাজী, মামলা বাণিজ্যের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। তবে,২০২৪ এর ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে নিজের পুরানো রুপ পরিবর্তন করে স্থানীয় কিছুসংখ্যক বিএনপি সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এককথায় বলাচলে পুনরায় নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাদ্দাম হোসেন তার বসবাসকৃত ভূমি পল্লীর একটি ভবনে নিয়মিত বর্তমান সরকার বিরোধী গোপন বৈঠকের আয়োজন করে থাকেন। সেখান তিনিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পুনরায় নিজেদের অবস্থান তৈরির অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের যেকোনো নাশতায় তাদের সক্রিয় ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বৈঠকে অংশ নেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা তাঁতীলীগের সভাপতি লিটন আহাম্মদ, তাঁতীলীগ নেতা জহির, যুবমহিলালীগ নেত্রী চম্পা ভূঁইয়া সহ অনেকেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বিএনপি কর্মী জানান, বিত্তবান হবার সুবাদে সাদ্দামের টিকি স্পর্শ করা তো দূরের কথা উল্টো তার সঙ্গে তাদের দলীয় নেতৃবৃন্দরা সক্ষতা গড়েছেন।
আদমজী ইপিজেডের এক প্রতিষ্ঠানের দুই বিদেশী কর্মকর্তার উপর হামলা চালিয়ে ফেঁসে যান সুকৌশলী সাদ্দাম। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা রুজু হয়। পরে তাঁকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়া হয়।
এবিষয়ে কথা বলতে সাদ্দামের মোবাইলে একাধিক ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন,অপতৎপরতার যেকোনো তথ্য পাওয়া মাত্রই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। পুলিশ সাদ্দাম হোসেন কে খুঁজছে।খুব শীঘ্রই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।



