ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী আন্দোলনের নেতা ও ব্যবসায়ী জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল (৪০) হত্যার ঘটনায় শীর্ষ দুষ্কৃতিকারী শেখ সিফাত (৩২) ও তাঁর সহযোগীসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে তিনটার দিকে বন্দর উপজেলার পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, গত বুধবার (২০ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দর থানার সালেহ নগর এলাকায় তাহের আলী প্রধানের বাড়ির সামনে সড়কে বুলবুলের পথরোধ করে হামলা চালানো হয়। শেখ সিফাতের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন তাঁকে ধারালো অস্ত্র, রামদা, চাপাতি, সুইচগিয়ার, চাকু ও লোহার পাইপ দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের খাবার সরবরাহ করতেন বুলবুল। এ নিয়ে শেখ সিফাত ও তাঁর সহযোগীরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ। এর জের ধরে ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই রাতে বন্দর থানার শাহী মসজিদ এলাকায় বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজে ঢ়ুকে অটোরিকশা, চার্জার ও ব্যাটারিসহ ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকার মালামাল চুরি করা হয়।
ওই ঘটনায় বুলবুল বাদী হয়ে গত বছরের ২০ আগস্ট বন্দর থানায় মামলা করেন। মামলা করার পর থেকেই তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দল অভিযান শুরু করে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘খ’ সার্কেল দীপংকর ঘোষের তদারকিতে এবং বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়।
পুলিশের দাবি, ভোর সাড়ে তিনটার দিকে পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন (২৯), মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), রিয়াদ (৩৩), মো. সিয়াম (২৫), মিনারা (৩৫), নাসিমা (৩৬), রুমা (৩৬), ইফরান (২৯), ইয়াসমিন (৪০) ও সিজান ওরফে জিসান (২৬)।
অভিযানে একটি ছ্যানদা, একটি সুইচগিয়ার চাকু, একটি স্টিলের চাপাতি, একটি লোহার পাইপ, একটি প্লাস্টিকের বাটযুক্ত স্টিলের ছুরি, একটি ওয়াকিটকি ও চারটি এসএসের লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মনের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। পুলিশের দাবি, শেখ সিফাত ও তাঁর সহযোগীরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।




