প্রশ্নের মুখে ডিপিডিসির ভূমিকা!!
ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার অভিযোগে আলম মিয়ার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও ফতুল্লা ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সংযোগ বিচ্ছিন্নের মাত্র তিন দিন পরই একই বাড়িতে অবস্থিত ‘শহীদ কম্পিউটার’ নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বাসাবাড়ির মিটার থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটর শহীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের তিনদিন পর রিপন খন্দকারের সঙ্গে যোগসাজশে বাসাবাড়ির বৈদ্যুতিক মিটার থেকে শহীদ কম্পিউটার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সংযোগ স্থাপন করা হলে স্থানীয় জনগণের তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন পুনরায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফতুল্লা ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনার পরদিনই নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৮৪ হাজার টাকা আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে বিদ্যুৎ অফিসের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মিটার রিডার নাসিরের যোগসাজশে পুনরায় শহীদ কম্পিউটারে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যেখানে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারণে মূল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, সেখানে একই বাড়ির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কীভাবে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলো? কোন নিয়মে, কার অনুমোদনে এবং কী ধরনের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এ সংযোগ দেওয়া হয়েছে?
স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, শহীদ কম্পিউটারের প্রোপাইটর শহীদ প্রায় সাত বছর ধরে বাসাবাড়ির বৈদ্যুতিক মিটার ব্যবহার করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। যদি এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি বিদ্যুৎ ব্যবহারের নিয়ম লঙ্ঘন এবং সম্ভাব্য বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগের আওতায় তদন্তের দাবি রাখে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা ডিপিডিসির সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল হাইয়ের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, কোনো গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর সেখানে যেকোনো ধরনের বিকল্প বা অন্য মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা অবৈধ ও বেআইনি। তবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে শহীদ কম্পিউটারের পুনরায় সংযোগ স্থাপনের বিষয়টি তুলে ধরা হলে তিনি এ বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। এমনকি বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলেও জানান।
এদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অজ্ঞাতে যদি পুনরায় সংযোগ স্থাপন হয়ে থাকে, তাহলে কারা এর অনুমোদন দিলেন? আর কর্মকর্তাদের জ্ঞাতসারে হয়ে থাকলে কোন বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা করা হলো? এ প্রশ্নেরও স্পষ্ট জবাব প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং এর বিল জনগণের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব। অথচ বিপুল অঙ্কের বকেয়া থাকা সত্ত্বেও একই স্থানে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের অভিযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ৮৪ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ, সাত বছর ধরে বাসাবাড়ির মিটার থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ এবং পুনঃসংযোগের অনুমোদনÑসবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়, অবৈধ সংযোগের সত্যতা যাচাই এবং কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এখন স্থানীয়দের একটাই প্রশ্নÑসাধারণ গ্রাহকের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও একই স্থানে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে কী নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে? বিদ্যুৎ বিভাগের এই দ্বৈত পরিস্থিতির ব্যাখ্যা কে দেবে?
এ বিষয়ে ডিপিডিসি ফতুল্লা অঞ্চলের রিডারম্যান মো.নাসিরের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐ দোকানের মালিক ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের বিভিন্ন মামলার কাজ করে থাকেন বলে থানার একাধিক পুলিশ আমাদেরকে ফোন করেছেন এবং বলেছেন নতুন সংযোগটি দেয়ার জন্য। বিচ্ছিন্নকৃত সংযোগ পুন:সংযোগ দিতে বলার জন্য পুলিশের কোন এখতিয়ার রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেনি রিডারম্যান নাসির। উক্ত দোকানী প্রায় ৭ বছর যাবত আবাসিক সংযোগ থেকে বানিজ্যিক সংযোগ চালালো সেই বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কিংবা মালিকের বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবও এড়িয়ে যান রিডারম্যান নাসির। ৮৪ হাজার টাকার বিনিময়ে উক্ত দোকানীকে নতুনভাবে সংযোগ দেয়া হয়েছে এমনটাই বলে বেড়াচ্ছেন সেই দোকানী এমন প্রশ্নের উত্তরে রিডারম্যান নাসির বলেন, উনার একটি মিটারের বিল পরিশোধ করেছেন তাই তিনি টাকা পরিশোধ করেছেন। কিন্তু মিটার তো তার নামে নয় তিনি কেন পরিশোধ করবেন এবং নতুন সংযোগ নিতে আপনাকে ৮৪ হাজার টাকা দিলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা আপনি এঙ্চেঞ্জ স্যারের সাথে কথা বলেন।
এ বিষয়ে শহিদ কম্পিউটারের মালিক শহিদুল ইসলাম জানান, আমি লাইন নিয়েছি বিদ্যুত অফিসে অনেক সাংবাদিক ক্যামেরা নিয়ে গেছিলো আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন। পরে তিনি বলেন, যেদিন ৪০ জন বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন এসে বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দিলো সেদিন থানার এসআই নন্দন স্যারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন তারা সবাই রিকুয়েষ্ট করেছিলো কিন্তু কারোর কথা শুনেনি তারা। পরদিন আমি রিপন খন্দকার মামার বাড়ি থেকে সংযোগ নিলেও একজন ব্যক্তি বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করতে তারা এসে লাইনটি কেটে দিয়ে যায়। কোন ব্যক্তি ফোন করেছে তাকেও আমি চিনি কারন বিদ্যুৎ অফিস থেকে আমাকে ফোন করে জানিয়ে তারা। নতুনভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে হলে অনেক কাগজপত্র জমা দিতে হয় তাছাড়া আপনি তো ভাড়াটিয়া তাহলে কিভাবে সংযোগ নিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,ভাই দোকানে লোজ আছে তো আমি আপনাকে পরে ফোন দিচ্ছি।




