ষ্টাফ রিপোর্টার:
ফতুল্লা মডেল থানার পিছনে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্মিত ওয়াকওয়েটি যেন সন্ধ্যা নামলেই গড়ে উঠে মাদক সেবী ও মোবাইল জুয়ারীদের একটি নিরাপদ জোনে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত দেয়া যায় এমন দৃশ্য যা সামনে থাকা মডেল থানা পুলিশের চোখ বন্ধ রেখে অবলোকন করা ছাড়া অন্য কিছুই তাদের দ্বায়িত্বে নেই।
সরেজমিনে দেখা যায় যে,প্রায় বছরখানেক পুর্বে ফতুল্লা লঞ্চঘাট থেকে থানা পিছন দিয়ে মেঘনা ডিপোর পেছন পর্যন্ত তৈরী হয়েছে এ ওয়াকওয়েটি। নদীপথের সীমানা রক্ষা এবং সাধারন মানুষের একটু হাটা-চলাফেরার জন্য নির্মান করা হয় এ ওয়াকওয়েটি। কিন্তু বাস্তবে দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলে সাধারন পরিশ্রম করা মানুষগুলো একটু প্রশান্তির জন্য সেখানে গেলেও প্রশান্তির পরিবর্তে উল্টো অশান্তি শুরু হয় তাদের মাঝে। ফতুল্লা বাজারের পেছনে নদীরপাশে নির্মিত বাথরুম থেকে শুরু করে ওয়াকওয়ের শেষ প্রান্ত অথ্যাৎ মেঘনা ডিপোর ঘাট পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী ছেলেরা সেখানে দলবেধে শুরু করে মুঠোফোনে বিভিন্ন জুয়ার এ্যাপস দিয়ে জুয়ার আড্ডা। পাশাপাশি একটি চক্র সেখানে মাদক বিক্রি,মাদক সেবন এবং নদীতে থাকা ভাসমান তেলের ট্যাংকার থেকে শুরু করে তেলচুরির মহোৎসব। যুবকদের মোবাইল জুয়া,মাদক বিক্রেতাদের মাদক বিক্রি আর সেবনকারীদের মাদকের ঘ্রানে যেন পুরো ওয়াকওয়ের বাতাসকে দুর্বিষহ করে তোলে। যার ফলে সেখানে হাটতে যাওয়া মানুষগুলোর মাঝে প্রশান্তির পরিবর্তে অশান্তি শুরু হয়ে পড়ে। অথচ থানা পেছনে থাকা ওয়াকওয়েটি যেন মাদক ও জুয়া অপরাধীদের কাছে ক্রমেই সুপ্রিয় হয়ে উঠছে আর থানায় অবস্থানকারী পুলিশ সদস্যরা সবকিছু দেখেও অদেখা ভ্যান করে যাচ্ছেন।
সন্ধ্যার পরে সেখানে ঘুরতে যাওয়া একাধিক মানুষের সাথে কথা বললে তারা জানান, সামনেই থানা আর পেছনে মোবাইল জুয়া ও মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের আখড়া এটা ভাবতে কষ্ট লাগে। কিন্তু কি আর করার একটু প্রশান্তির জন্য এখানে এসে তো আর অশান্তি ভোগ করা যাবেনা। তাই আজ পর্যন্তই ইতি। তবে থানার পেছনে থাকা সুন্দর একটি স্থানের পরিবেশ বিনষ্ট কারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নেয়াটা জরুরী। কারন এটা একটা সুন্দর ও নিরাপদ স্থান। সন্ধ্যার পর নদীর পাড়ে হাটা-চলাফেরা করাটা সবসময় হয়না। কাজের ফাকে মাঝে-মধ্যে একটু এখানে আসা হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে এখানে যেই অবস্থা সেটা অনুভব করাটা মুশকিল। একদিকে মোবাইল জুয়ারীদের আড্ডাস্থল আর অপরদিকে মাদক বিক্রি ও সেবনকারীদের দৌরাত্ম বেড়ে চলছে যা এখানে আগতদেও সমস্যা তৈরী করতে পারে। তাই সামনে থাকা পুলিশের উচিত বিষয়টি তাদের নজরদারীতে দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা।
তাই থানার পেছনে সাধারন মানুষের চলাচলের জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র নির্মিত ওয়াকওয়েটির পরিবেশ সুন্দর থাকে সেই বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা অফিসার ইনচার্জের সদয় হস্তক্ষে কামনা করছেন সেখানে হাটতে আসা সাধারন মানুষ।




