মামলা হলে বাদ পড়েছেন যুবদলের দেলোয়ার!
ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের জোগারদিয়া নয়াপাড়া এলাকায় জুনায়েদ নামে এক যুবককে অপহরন পরবর্তী মুক্তিপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে দুপ্তারা ইউনিয়নের যুবদলের সহ-সভাপতি মো.দেলোয়ার হোসেন ও তার নিয়ন্ত্রিত কিশোরগ্যাং বাহিনীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জুনায়েদেও বাবা রওশন আলী আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করলেও বিএনপি নেতাদের চাপের মুখে পড়ে অপহরনের ঘটনার মহানায়ক যুবদল নেতা দেলোয়ারের নাম বাদ দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
মামলা বিবরনে জানা যায় যে, ২৫ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় জুনায়েদ নিজ বাসা হতে আড়াইহাজার বাজারস্থ ভাই ভাই প্লাজায় নিজ তলায় পুবালী ব্যাংকের এটিএম বুথ হতে টাকা উত্তোলনের জন্য আসে। এটিএম বুথে টাকা না থাকায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একই স্থান হতে জোড়ারদিয়া যাবে বলে অটোরিক্সায় উঠে। এ সময় কিছুদুর যাওয়ার পর অটো চালকসহ সত্যাবান্দি ভাটি নয়াপাড়া গ্রামের মৃত.সাজাহানের ছেলে জিসান,নবী হোসেন ওরফে নুর হোসেনের ছেলে হাসান,কালামের ছেলে নাজমুল,দায়েনের ছেলে মাফিজুল,আবুল হোসেনের ছেলে রানা,হযরত আলীর ছেলে সোহান,সিদ্দিকের ছেলে রাকিব,জাকিরের ছেলে সাকিব এবং আমির হোসেনের ছেলে স্বপনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪ জন আমার ছেলের মুখ চেপে ধরে হত্যার উদ্দ্যোশে আমার ছেলে অপহনের জন্য একটি বিল্ডিংয়ে নিয়ে যায় এবং আটক করে রাখে। এ সময় ২নং বিবাদী আমার ছেলে মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায় এবং আমার ছেলের কাছে মুক্তিপন দাবী করে। আমার ছেলে মুক্তিপন দিকে অস্বীকার করার বিবাদীরা আমার ছেলে লাঠি দিয়ে আঘাত করে লীলাফুলা জখম করে। ১নং বিবাদীর পাইপের আঘাতে আমার ছেলের বাম হাতের অনামিকা আঙ্গুলের নখ উপড়ে ফেলে। একই দিন রাত প্রায় ৯টায় বিবাদীরা ০১৯০৯-১৭০৪@@ মুঠোফোন হতে আমার ভাতিজা নুরুল ইসলামের ব্যবহৃত মুঠোফোনে ০১৬৮২-৮০৩৯@@ ফোন দিয়ে জুনায়েদতে বাচাঁতে ১ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করে। এ সময় বিবাদীদের ব্যবহৃত বিকাশ নং ০১৯৬৪-৮৮৬১@@ আমার ভাগিনার মোবাইল ফোন থেকে ৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়।
পওে আমরা থানায় এসে পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দুপ্তারা ইউনিয়নের সত্যবান্দি ভাটি নয়াপাড়া এলাকা হতে আহত অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে ওকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।
তবে স্থানীয়রা জানান,যুবদল নেতা দেলোয়ারের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংয়ের বাহিনী এতটাই বেপরোয়া যে আডড়ইহাজার থানা দুপ্তারা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের জনগণ দেলোয়ার ও তার লোকজনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। ওরা এলাকার রমরমা মাদক ব্যবসা চুরি ডাকাতি ছিনতাই ও অপহরণ এর মত জঘন্যতম অপরাধে জড়িত। তারা আরো জানায়, তাদের অত্যাচারে গ্রামের অনেক মানুষ ঘর বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। প্রশাসন এবং দলীয় সিনিয়র নেতারা ওদের কিছুই করতে পারছে না। মিল ফ্যাক্টরি ব্যবসায়ীরা ওদের যন্ত্রণায় ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারছে না মাস শেষ না হতেই ওদের চাঁদাবাজি রমরমা। এলাকার কোন মানুষ কোন প্রতিবাদ করলে পুরো এলাকায় অস্ত্র মোহরা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখায়।
তারা আরও জানান,যুবদল নেতা দেলোয়ার হোসেনের বড়ভাই আওয়ামীলীগ নেতা খোকনও বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত রয়েছে ছোটভাইয়ের সাথে। যেমন বিগত আওয়ামীলীগের শাসনামলে তান্ডব চালিয়েছিলো। বর্তমানেও ছোটভাইয়ের সাথে যুক্ত হয়ে চালাচ্ছে পুর্বের ন্যায় অপরাধলীলা। আর যুবদল নেতা দেলোয়ার হোসেনের গ্রুপের সদস্যরা হলেন হাসানউল্লাহ,মাজহারুল ইসলাম,জিসান,আবির,সোহান,মাফিজুল,হাসান,জাহাঙ্গীর,স্বপনগং।




