ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার শেহাচর তক্কার মাঠ বায়তুল আমান জামে মসজিদের উপদেষ্টা কমিটি নিয়ে মুসল্লিদের মাঝে উত্তেজনা। মসজিদ কমিটি রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন মুসল্লিরা।
১০ জুলাই শুক্রবার বাদ জুম্মা ফতুল্লা তক্কার মাঠ এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের মুসুল্লিদের মাঝে মসজিদের নবগঠিত উপদেষ্টা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ মন্টু মেম্বার ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ জানান, ৫ আগষ্টের পর মসজিদে ৬৯২ জন মুসুল্লির সমর্থনে ৪২ বিশিষ্ট কমিটি উপস্থিতিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সে সময় সবার দাবি ছিল মসজিদ যেন রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত থাকে আমরা মসজিদের মুসল্লিদের প্রতি সম্মান রেখে মসজিদের বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছি।
গত ৩ জুলাই শুক্রবার বাদ জুম্মা কোন প্রকার অবগতি না করে মসজিদ কমিটির কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ শাহ আলম পাটোয়ারী ও যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ন কবির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাক্ষর করে সংবিধানিক বহির্ভূত ভাবে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোঃ চৌধুরীকে ১ নং উপদেষ্টা করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটির নাম ঘোষনা করেন ফতুল্লা থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার। যেখানে বৈষম্য বিরোধী হত্যা মামলার আসামীও রয়েছে। যেখানে মসজিদের সভাপতি-সম্পাদক সহ পূর্নাঙ্গ কমিটি রয়েছে তাদের অবগত না করে সেখানে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করে সেখানে সিঃ সহ সভাপতি মোঃ শাহ আলম পাটোয়ারী ও যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ন কবির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে স্বাক্ষর করেন কিভাবে।
এ সময় মসজিদের সভাপতি মোঃ মন্টু মেম্বার বলেন, ১ নং উপদেষ্টা রিয়াদ মোঃ চৌধুরীর সাথে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে, আমাকে বড় হিসেবে মানে তার উপদেষ্টা হওয়ার ইচ্ছা আমাকে বলতো আমি কমিটির সবাইকে নিয়ে আলোচনার করতাম, আর রুহুল আমিন শিকদার এই এলাকার বাসিন্দা না ভোটারও না। তাহলে কিভাবে এই মসজিদের উপদেষ্টা হওয়ার দাবি রাখে। তিনি বলেন,বিগত ১৭ বছরে এ মসজিদ নিয়ে আওয়ামীলীগের শাহনিজাম এবং শ্রমিক নেতা কাউসার আহমেদ পলাশও নিজের প্রভাব খাটিয়ে তাদের মনমতো কমিটি দিয়েছিল। আসলে মসজিদ হলো ইবাদতের স্থান এটা নিয়ে রাজনীতি করাটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত।
বর্তমানেও সেইভাবেই চাচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা হওয়ার পায়তারা করছে আমি জীবিত থাকতে হতে দেব না প্রয়োজনে মুসুল্লিদের সাথে নিয়ে সেখানে যেতে আমি যাব। মসজিদ চলবে কমিটির মাধ্যমে আর কমিটি চলবে মুসুল্লিদের মাধ্যমে।
তক্কারমাঠ বাইতুল আমান জামে মসজিদের সি:সহ-সভাপতি শাহআলম পাটোয়ারী বলেন, রুহুল আমিন শিকদার প্রায় ১৫ মাস আগে ১৮ মাসের মেয়াদের এ কমিটি গঠন করে দেন। কমিটির বর্তমান সেক্রেটারী প্রায় ৬ মাস যাবত মসজিদে আসেন না তাই যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবীরকে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী করা হয়েছে। উপদেষ্টা কমিটিতে রিয়াদ চৌধুরীকে সভাপতি সাহেব মানবেনা বিধায় তাই সভাপতি সাহেবকে জানানো হয়নি। রুহুল আমিন শিকদার ফতুল্লা ইউনিয়নের বাসিন্দা হয়ে সে কিভাবে কুতুবপুরে অবস্থিত একটি মসজিদের উপদেষ্টা কিংবা কমিটি অনুমোদন দেন। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রুহুল আমিনের বাপ-দাদার বাড়ি এখানে তাই তিনি উপদেষ্টা হয়েছেন।
তক্কারমাঠ বাইতুল আমান জামে মসজিদের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বলেন, রিয়াদ চৌধুরীকে উপদেষ্টা হিসেবে সভাপতি মন্টু মেম্বার গ্রহন করবেনা বিধায় আমরা তাকে জানাইনি। মসজিদ আল্লাহর ঘর আমরা চাই এখানে শান্তি বিরাজ করুক। আমাদের কমিটির মেয়াদ আর কয়েক মাস রয়েছে। আওয়ামী দোসর কিংবা বৈষম্যবিরোধী মামলায় জেল খাটা আসামী কিভাবে উপদেষ্টা পরিষদে স্থান পায় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,ভাই ভাত খাইতে গেলে দুই-একটা পড়তেই পারে। তাছাড়া সকলের বিষয়ে আমাদের কোন ধারনা নেই।



