ষ্টাফ রিপোর্টার:
ফতুল্লা মডেল থানায় গত জুন মাসের ৩০ দিনে দু’টি হত্যা মামলা ও ১৭টি মাদক মামলাসহ মোট ৫৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই সাথে ১১৩টি ওয়ারেন্ট তামিলের পাশাপাশি যৎসামান্য মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
ফতুল্লা মডেল থানা মাসিক হালচাল রিপোর্টে জানা যায় যে, ১১৩ টি ওয়ারেন্ট তামিলের মধ্যে জিআর মামলা ৫৭টি এবং সিআর মামলা ৪৬টি। এ সময় গত একমাসে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২ কেজি ৯শত গ্রাম গাজাঁ,২২২পিস ইয়াবা,১৫ বোতল ফেন্সিডিল এবং ৭৫০ এমএল মদ উদ্ধার করেছে।
তবে ফতুল্লা থানাধীন বিভিন্ন এলাকাতে মাদক,কিশোরগ্যাংসহ যেসকল অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে তা সহনশীল পর্যায়ে আনতে পুরোটাই ব্যর্থ থানা পুলিশ এমনটাই বলছেন বিভিন্ন এলাকার সাধারন মানুষ। জেলার শিল্পাঞ্চল এলাকা হিসেবে ফতুল্লা একটি অন্যতম এলাকা। বিভিন্ন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠার ফলে দেশের বিভিন্ন জেলা হতে কয়েক লক্ষাধিক লোক এখানে বসবাস করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রায় ১০ লক্ষাধিক লোকের বসবাস এ থানা এলাকাতে। এদের মধ্যে ভাসমান লোকের সংখ্যা অর্ধেকের বেশী। যার ফলে অপরাধ প্রবনতাকে বেশীরভাগ প্রাধান্য দিচ্ছে ভাসমান লোকেরা। স্থানীয় নেতা কিংবা প্রভাবশালীদের আয়ত্বে থেকে মাদক বিক্রি,চুরি,ডাকাতি,ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে এ সকল ভাসমান লোকগুলো। আর এদেরকে যারা নিয়ন্ত্রন করছেন তারা অধরাই রয়ে যায়।
তবে এখানে বসবাসকারী অনেকের মতে,ফতুল্লা মডেল থানা এলাকাতে সবচেয়ে ভয়াবহতা রয়েছে মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে। মাদক বিক্রি নিয়ে আধিপত্য বিস্তার,প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন,মাদক বিক্রেদাতের কাছে থাকা অথ্যাধুনিক অস্ত্রগুলো যেন সাধারন মানুষগুলোকে মাদকের চেয়েও বেশী আতংকের কারন। সামান্য বিষয়ে হত্যাকান্ডের মত জঘন্যতম অপরাধ করতে দ্বিধাবোধ করছেনা উক্ত অপরাধীচক্র। প্রতিটি পাড়া-মহল্লাতে যেন মাদক এখন উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। যার প্রভাব পড়ছে সকল শ্রেনীর মানুষের কাছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলের পাশেও গড়ে উঠেছে মাদকের উন্মুক্ত স্পট। যার ফলে স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও ধীরে ধীরে মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে।
তবে ৫ আগষ্টের পর হতে পুরিশ প্রশাসনের নিরবতার ফলে ফতুল্লা থানাধীন প্রতিটি পাড়া-মহল্লাগুলো যেন মাদক বিক্রি এখন ওপেন সিক্রেটে রুপ ধারন করেছে।
স্থানীয়দের মতে,মাদক উদ্ধারে পুলিশের নিরবতা এবং মাদক বিক্রেতাদের সাথে পুলিশ ও সোর্সের সখ্যতা। মাদক উদ্ধারের পরিবর্তে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা যেন এখন নৈমিত্তিক বিষয়ে দাড়িয়েছে। তবে কিছু কিছু এলাকাতে মাদকের সাথে বিশেষ পেশার ব্যক্তিদের সরাসরি সুত্রতার সংবাদ জানান বিভিন্ন এলাকার শান্তিপ্রিয় সাধারন মানুষ। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পরিবর্তে উল্টো পুলিশ ও বিশেষ ব্যক্তিদের সখ্যতার ফলে তা নির্মূলে অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
তবে স্থানীয়দের মতে.গত একমাসে থানা পুলিশ যে পরিমানে মাদক উদ্ধার করেছে তা সত্যিই হাস্যকর ব্যাপার। কারন এমনও মাদক স্পট রয়েছে যেখানে প্রতিদিন সর্বনিন্ম ২০ কেজি গাঁজা,হাজার পিস ইয়াবা,শত শত বোতল ফেন্সিডিল এবং লিটারের পর লিটার মদ বিক্রি হচ্ছে। অথছ থানা পুলিশ গত একমাসে যেটা উদ্ধার করেছে সেটা কল্পনাতীত।
বিভিন্ন এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষের মতে,মাদক-কিশোরগ্যাং-চুরি-ছিনতাইসহ নানাবিধ অপরাধ দমনে পুলিশকে আরো শক্ত অবস্থানে যাওয়া উচিত। পুর্বে যেমন থানায় ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হতো বর্তমানে সেটা বন্ধ রয়েছে। পাড়া-মহল্লাগুলো পুলিশের টহল বৃদ্ধিরও সুপারিশ জানান তারা।




