ষ্টাফ রিপোর্টার:
রবিবার ২১ জুন অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগো নারায়ণগঞ্জ২৪.কমে প্রকাশিত “ফতুল্লার ভোলাইলে মাদক স¤্রাট আল আমিন রকি প্রকাশ্যে থেকেও অধরা”! শীর্ষক সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর ভোলাইলসহ আশপাশ এলাকার কয়েকজন মুঠোফোনে অত্র প্রতিবেদককে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে একাধিক শীর্ষ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হলে এখনও পর্যন্ত বীরদর্পে রয়েছে কাশিপুর তথা নারায়ণগঞ্জের অন্যতম মাদকের ডিলার আল আমিন রকি। তারা বলেন, আল আমিন রকি শুধু নারায়ণগঞ্জে নয় ও দেশব্যাপী একজন চিহিৃত মাদকের ডিলার। মাদক বিক্রির টাকা ভোলাইল মিষ্টির দোকান হতে শুরু করে মরাখালপাড় পর্যন্ত কয়েকটি বাড়ির মালিক বনে গেছেন। শুধু মাদক বিক্রি নয় মাদক সেবনকারীদের জন্য রেখেছে স্পেশাল ব্যবস্থা। ভোলাইল এলাকার আজাদ মাহাজনের রিক্সা গেরেজের উল্টো পাশে রয়েছে আল আমিন রকির মেছ। সেই মেছের ভেতরেই চলে সর্বক্ষন মাদক সেবনের আড্ডা। আর উক্ত মেছের আশপাশে রেখেছে সিসি ক্যামেরা যা দিয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনীর যাতায়াতকে নিয়ন্ত্রন করে থাকে।
ভোলাইলসহ আশপাশ এলাকার শান্তিকামী সাধারন মানুষের দাবী,অন্যতম শীর্ষ মাদক কারবারী আল আমিন রকিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নেয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপার,র্যাব-১১ এবং ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
গতকালের প্রকাশিত সংবাদটি হুবুহু তুলে ধরা হলো:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার চিহ্নিত মাদককারবারি ও একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আলআমিন মিয়া ওরফে রকি দীর্ঘ দিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তার অপরাধ সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আলআমিন রকি ফতুল্লা থানার ভোলাইল মিলিটারি বাড়ি এলাকার মো. হাসান আলীর ছেলে।
রকির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় মাদক এবং ডাকাতির প্রস্তুতির একাধিক মামলা রয়েছে। আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া স্বত্তেও সে গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রকির অপরাধের পরিধি শুধু নারায়ণগঞ্জেই সীমাবদ্ধ নয়, ২০১২ ও ২০১৬ সালে ফতুল্লা মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারায় দুটি বড় মাদকের চালানসহ গ্রেফতার হয়ে ছিল রকি (মামলা নং-৩৭ ও ৩৯)।
২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের পটিয়া থানার মনসা বাদামতল এলাকায় এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেফতার হয় রকি। পরদিন ২৭ নভেম্বর পটিয়া থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয় (এফআইআর নং-৪২, জিআর নং-৪২৯)। এই মামলায় জামিনে বেরিয়ে দীর্ঘদিন আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় বর্তমানে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) ঝুলছে।
২০১৮ সালে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি রকি স্থানীয় একটি সশস্ত্র ডাকাত দলের নেতৃত্ব দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালের ৬ জুন ফতুল্লা থানায় দন্ডবিধির ৩৯৯/৪০২ ধারায় দায়ের হওয়া একটি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় তাকে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি করা হয় (এফআইআর নং-১৭)।
স্থানীয় একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, বিভিন্ন সময় মাদক ব্যবসায়ী রকি মাদকসহ গ্রেফতার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে বা আত্মগোপনে থেকে রকি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বর্তমানে সে ভোলাইল, মিসিটারী বাড়ি, কায়েমপুর সহ ফতুল্লার বেশ কয়েকটি এলাকায় নিজস্ব ‘কিশোরগ্যাং’ ও মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তার এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খুচরা পর্যায়ে ইয়াবা ও ফেন্সিডিল সরবরাহ করা হয়।
আলআমিন রকির অন্যতম সহযোদ্ধা রেহানার ছেলে বড় সোহেল এবং মুক্তিযোদ্ধা সালামের ছেলে বক্কর ও রাকিব। ভোলাইল মরা খালপাড় এলাকায় মাছ খামারের ভেতরেই রয়েছে আলআমিন রকির এক গোপন আস্থানা। যেখানে রয়েছে প্রচুর দেশীয় অস্ত্রেুর সমাহার এমটাই জানান স্থানীয়রা। তারা আরও জানান,উক্ত মাছ খামারের চারপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেই পুলিশ সহ সবকিছুই নিজেদের দৃষ্টির মাঝে রেখেই রকি ও তার বাহিনীর সদস্যরা চালাচ্ছে নানাবিধ অপরাধকর্ম। সেখানে ইয়াবা সেবীদের ইয়াবা সেবনের জন্য সুবন্ধোবস্ত রাখা হয়েছে। এছাড়াও ভোলাইলসহ আশপাশ এলাকায় চুরি-ছিনতাইসহ যাবতীয় অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে রকি। আর এ কাজে সহযোগিতা করার জন্য একাধিক কিশোরগ্যাংয়ের গ্রুপও রয়েছে আলআমিন রকির।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের পরোক্ষ ছত্রছায়ায় থাকার কারণে সে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রকির মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিলে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। মিথ্যা মামলায় জড়ানো, বাড়িতে হামলা কিংবা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে চরিত্রহনন করার ভয় দেখানো হয়। ফলে নিরাপত্তার অভাবে সাধারণ মানুষ এখন মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী শুধু পুলিশি অভিযান নয়, বরং মাদক নির্মূলে তথ্য দাতাদের কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।



