জাগো নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে আত্মগোপনে থাকা আজমেরী ওসমানের দুর্ধর্ষ ‘হোন্ডা বাহিনী’। একসময়কার নিষিদ্ধ সংগঠনের দাপুটে নেতা মহানগর সৈনিক লীগের সহ-সভাপতি আলমগীর এবং যুবলীগ নেতা সাজু এখন নতুন কৌশলে বন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছে।
অভিযোগ উঠেছে, দিনের আলোতে তারা বন্দর উপজেলা বিএনপি নেতা মোমেনের সাথে সময় কাটিয়ে নিজেদের ‘নিরাপদ’ রাখছে, আর রাত গভীর হলেই আজমেরী ওসমানের নির্দেশে উত্তর অঞ্চলে গোপন বৈঠক করে নাশকতার নীল নকশা বুনছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলমগীর ও সাজু এই দুই সহোদর এক ভয়াবহ ‘ডাবল গেম’ খেলছে। দিনের বেলা তারা কৌশলে বন্দর উপজেলা বিএনপি নেতা মোমেনের সাথে অবস্থান করে জনমনে এমন ধারণা দিচ্ছে যে তারা বিএনপির আদর্শে মিশে গেছে। অথচ নেপথ্যের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ৫ আগস্টের পর কিছুটা আত্মগোপনে থাকলেও এখন তারা আজমেরী ওসমানের হাতকে শক্তিশালী করতে যুবলীগ ও সৈনিক লীগের ক্যাডারদের পুনরায় সুসংগঠিত করছে। মূলত আগামী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বন্দরে বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে এই চক্রটির।
এই পুরো সিন্ডিকেটের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করছেন তাঁদেরই আরেক ভাই, ২৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি শামসুজ্জোহা। তিনি বর্তমানে রাতারাতি নিজেকে ‘বিএনপি নেতা’ হিসেবে জাহির করে ক্ষমতাসীন বলয়ে ঢোকার মরণকামড় দিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, শামসুজ্জোহা বিএনপিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করছেন মূলত তাঁর অন্য দুই ভাই আলমগীর ও সাজুকে সুরক্ষা দিতে। ভাইয়ের এই রাজনৈতিক ঢাল ব্যবহার করেই আলমগীর ও সাজু নির্বিঘ্নে ওসমানের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে আজমেরী ওসমানের নির্দেশে আলমগীর ও সাজু তাদের ‘হোন্ডা বাহিনী’ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পৈশাচিক তান্ডব চালিয়েছে। রাজপথে অস্ত্র হাতে শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরানো এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এখনো মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়ানোয় ছাত্র-জনতার মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বন্দরের উত্তর অঞ্চলসহ পুরো এলাকাকে নিরাপদ রাখতে এই ‘রাজনৈতিক গিরগিটি’ ও নাশকতার পরিকল্পনাকারীদের এখনই রুখে দেওয়া প্রয়োজন। ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে আলমগীর, সাজু এবং ছাত্র হত্যা মামলার আসামি শামসুজ্জোহাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায় বন্দরের শান্ত পরিবেশ যেকোনো সময় রক্তাক্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




