বন্দর প্রতিনিধি : নাসিক ২৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহীন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার ২০ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় বন্দরের মদনপুরের ফুলহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমানের অন্যতম সহযোগী।
শাহীন মিয়াকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এস-আই) জলিল জানান, তাকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলা নাম্বার ১৪/৮/২০২৪।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোতালেব জানান, শাহীন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে উক্ত মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। তবে তার কোন রিমান্ড আবেদন করা হয়নি।
এদিকে শাহীন মিয়া গ্রেপ্তারের পর থেকে তাকে ছাড়াতে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার থানা তদবির করার অভিযোগ উঠেছে। কথিত যুবদল নেতা মোমেন এর ছোট ভাই জিয়া মঞ্চ বন্দর উপজেলার সভাপতি আল-আমিন, আজমেরী ওসমানের সহযোগী শফিউল্লাহ বন্দর থানায় উপস্থিত হয়ে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে জোড় তদবির চালিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, শাহীন মিয়া ছিলেন সাবেক এমপি নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমানের অন্যতম সহযোগী। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় শাহীন মিয়া গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সাবেক এমপি নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমানের নাম ভাঙ্গিয়ে মদনপুর ফলুহর সব আশেপাশের এলাকাগুলোতে ভূয়া ওয়ারিশ নামা দলিল সহ, ভেজাল দলিলের মাধ্যমে অল্পদামে জমি ক্রয় করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমির প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে তাদের জমি, বসতভিটা হাতিয়ে নিয়ে তাদেরকে সর্বশান্ত করেছে। সে সময় আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ লোক হওয়ায় এই গিরিঙ্গি শাহীনের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে বা প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। ভূয়া দলিলের মাধ্যমে জমির ব্যবসার পাশাপাশি তার অধীনে থাকা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ করেছেন এলাকার বেশ কিছু মাদক স্পট। জমি ও মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণে টাকায় আওয়ামীলীগের ক্ষমতার ১৫ বছরে শাহীন কোটিপতি বনে যায়।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে কিছুদিনের জন্য ঘা ঢাকা দেয় ফ্যাসিস্ট ওসমান পরিবারের এই দোসর শাহীন মিয়া। বর্তমানে সে আবারো এলাকায় ফিরে এসে নিজের ভোল পাল্টে পুরনো রূপে আবির্ভূত হয়েছিলো। স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতাকে ম্যানেজ করে এই আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী নব্য বিএনপি সাজার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল।




