ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় উদ্বোধনের আগেই ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি জনশৌচাগার (পাবলিক টয়লেট) বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জনগণের কল্যাণে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি উদ্বোধনের মুখ না দেখেই ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, ‘উপজেলা টাউন মাস্টার প্ল্যান ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় বন্দর উপজেলায় তিনটি জনশৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে নবীগঞ্জ রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় একটি শৌচাগারের নির্মাণকাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত বা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার আগেই উচ্ছেদ অভিযানে সময় শৌচাগারটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ১৬ লাখ টাকার সরকারি প্রজেক্ট এভাবে চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হতবাক স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে জানতে বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিবানী সরকারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টির দায় এড়াতে চান। তিনি বলেন, “বিষয়টি দেখেছি, তবে আপনি এলজিইডি (খএঊউ) অফিসারের সাথে যোগাযোগ করেন”Ñবলে ফোন কেটে দেন।
বন্দর উপজেলা প্রকৌশলী এস এম সামিক ইশরাক জানান, “আমাদের প্রজেক্টের কাজ আমরা সফলভাবে শেষ করে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করেছি। তবে উচ্ছেদ অভিযানের সময় ভেঙে ফেলার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনসাধারণের এত প্রয়োজনীয় একটি সরকারি প্রজেক্ট তৈরি করার পর কেন বা কার স্বার্থে তা এভাবে ভেঙে ফেলা হলো, তার কোনো সদুত্তর কেউ দিতে পারছে না। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি এতগুলো টাকা অপচয় হওয়ার পরও কেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কোনো জবাবদিহিতা থাকবে না? দেশ কি কোনো জবাবদিহিতাহীন অবস্থায় চলছে?
উদ্বোধনের আগেই সরকারি অর্থ অপচয়ের এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।




