নিজস্ব প্রতিবেদক// নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার বাগবাড়ী মৃধাবাড়ী রোডস্থ রমজান মার্কেট এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে রমজান মার্কেট এলাকায় এক ব্যক্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বা মজুদ করছেন—এমন সন্দেহে এলাকাবাসী তাকে হাতে-নাতে আটক করেন। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী ওষুধ জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয়রা বন্দর থানায় খবর দিলে এসআই মামুন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। রাত ৮ টার ঘটনা পুলিশ আসে সাড়ে ১১ টায় দিকে। জনতার দীর্ঘ অপেক্ষা আর পুলিশের উপস্থিত ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে চলে যায়।
জনগণের অভিযোগ
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ আসার পর অপরাধীকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও এসআই মামুন কৌশলী ভূমিকা গ্রহণ করেন। অভিযোগ উঠেছে, জনসম্মুখে তাকে আটকের নাটক করলেও পরে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে দর কষাকষির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এরপর কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়া বা মামলা ছাড়াই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“আমরা জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধসহ লোকটাকে ধরলাম। কিন্তু পুলিশ এসে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো টাকা খেয়ে তাকে ছেড়ে দিল। এটা প্রশাসনের ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মামুনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি)। তবে বন্দর থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হলে তারা জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি
সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের হাত থেকে এলাকাকে রক্ষা করতে ওই ওষুধ বিক্রেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বন্দরবাসী।




