ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গুম হওয়া যুবক শুভর (২১) লাশ শনাক্ত করেছে তার পরিবার।
গত ৩১ মার্চ রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজের নিচ থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ শুভর বলে দাবি করেছেন তার মা মাকসুদা বেগম। এর আগে চলতি মাসের ২ এপ্রিল শুভর মা মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় শুভ গুমের অভিযোগ এনে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানাকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে শুভর পরিবার কর্তৃক লাশ শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান।
শুভ গুমের অভিযোগের দায়ের কৃত মামলার অভিযোগ সূত্র জানা যায়, গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে মো. শাকিল (২৫) ও লাল শুভ (২২) মুঠোফোনে জরুরি কাজের কথা বলে শুভকে ফতুল্লা থানাধীন চানমারী বস্তি এলাকায় ডেকে নেয়। পূর্ব শত্রুতার জেরে সেখানে তাকে মারধর করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় তারা। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি নিখোঁজ থাকেন। পরে তাকে চাষাড়া রেললাইন সংলগ্ন একটি অটোরিকশা গ্যারেজে নিয়ে নির্যাতন করে গুম করা হয়।
এ ঘটনায় শুভর মা মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে ২ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া কাশেম (৪৫), সাব্বির (২১), মো. শাকিল (২৮), পাপ্পু (৪০), সাংবাদিক আলী মিয়া (৩৮), জাহিদ (৩৫), আব্দুর রাজ্জাক (৫০), ওয়াসিম (২৩), লাল শুভ (২০) অজ্ঞাতাহ ১২ জনকে আসামি করেন। তাদের সবার বাড়ি ফতুল্লার ইসদাইর বস্তি এলাকায় বলে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ সাব্বির, রাজ্জাক ও ওয়াসিম নামের এজাহার নামীয় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান বলেন, “গত ৩১ মার্চ রূপগঞ্জে অজ্ঞাতনামা একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা সেটিকে শুভর লাশ হিসেবে শনাক্ত করেছেন। এর আগে ২৯ মার্চ সে ফতুল্লা থেকে গুম হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “যে ব্যক্তি শুভকে ডেকে নিয়ে যায় এবং যে মোটরসাইকেলে করে তাকে নেওয়া হয়েছিল, তাদের গ্রেফতার করতে পারলে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




