ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা, ভূমিদস্যু,সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ শফি আলম গং কর্তৃক আটক সোরহাব,পিয়াস সহ মহিলাদের কে মারধর,সুইচগিয়ার দিয়ে কুঁপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করার ৭ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। বরং এলাকায় অবস্থান করে ১নং ওয়ার্ড মেম্বার জাকির হোসেনের শেল্টারে থেকে আরো বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে শফি আলমগংরা। মামলা তুলে নেওয়া না হলে বড়ধরনের মাশুল দিতে হবে বলে হুমকি ধামকি প্রদান করছে। এমনটি জানালেন বাদী পিয়াস ও তার পরিবারের সদস্যরা।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলা নং ১৬ তারিখঃ ২২/০৭/২০২৫ইং ধারা ১৪৩/৩৪১/৩০৭/ ৫০৬/১১৪ ৩২৬/৩২৩/৩২৪/৩৭৯/ সুত্রে জানা যায়,পিয়াস (২৮), পিতা-জজ মিয়া, মাতা-পিয়ারা বেগম, সাং-আলীরটেক ফকির বাড়ি, ১নং ওয়ার্ড, থানা-নারায়নগঞ্জ সদর মডেল, জেলা- নারায়ণগঞ্জ বিবাদী ১। শফি আলম (৪০), পিতা-শহিদুল্লাহ, ২। খোরশেদ আলম (৩৬), পিতা-শহিদুল্লাহ, ৩। নুর আলম (৩৮), সর্বপিতা-শহিদুল্লাহ, ৪। শহিদুল্লাহ (৭৫), পিতা-মৃত ছায়েদ আলী, ৫। শরিয়ত উল্লাহ (৭০), পিতা-মৃত সায়েদ আলী, ৬। ফারুক।৩২), পিতা-শরিয়ত উল্লাহ, ৭। আওলাদ (৩০), পিতা-শরিয়ত উল্লাহ, ৮। আরব আলী (৬৫), পিতা-ফালান, ৯। রিপন (৩৫), পিতা-আরব আলী, ১০। সার্কিব (২৫), উভয় পিতা-আরব আলী, সর্ব সাং-আলীরটেক, ১১। ইমান হোসেন (৬০), পিতা-আলমেস, সাং-কুড়েরপাড়, সর্ব থানা ও জেলা-নারায়ণগঞ্জ।
১নং বিবাদী হতে ১১নং বিবাদীরা আমার পরস্পর আত্মীয়। বিবাদীগণের ওয়ারিসমূলে প্রাপ্ত সম্পত্তি বহু বছর পূর্বে বিক্রয় করিয়াছে। আমরা ওয়ারিসমূলে প্রাপ্ত সম্পত্তি বিক্রয় ঘটিকার করিনি। আমাদের ভাগের সম্পত্তি ভোগ দখলে থাকিয়া আমরা বহুবছর যাবৎ চাষাবাদ করিয়া আসিতেছি। বিবাদীগণ কিছু দিন যাবত আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র সহ পায়তারা করিয়া আসিতেছে।
গত ২১/০৭/২০২৫ ইং সকাল অনুমান ১০:০০ ঘটিকার সময় গোপচর মৌজাস্থিত রবি মেম্বারের বাড়ির পাশে আমাদের ওয়ারিশ সূত্রে পাওনা ৬০ শতাংশ জায়গায় ৪নং বিবাদী নিজেকে জমির মালিক দাবী করিয়া সম্পত্তি দখল করিয়া নেওয়ার চেষ্টা করে।
গত ২১/০৭/২০২৫ ইং অনুমান সকাল ১১:০০ ঘটিকায় উক্ত জমিতে আমাদের বপন করা গরুর জন্য জাদু ঘাস উক্ত বিবাদীরা কাটিয়া নিয়া যাওয়ার খবর পেয়ে ১নং বিবাদীর সহিত আলোচনার উদ্দেশ্যে আমার চাচা সোরহাব মিয়া (৫৫) পিতা- শহিদুল্লাহ, সাং-আলীরটেক ফকির বাড়ি, থানা-নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল, জেলা-নারায়ণগঞ্জ এর বাসা থেকে বাহির হইয়া সামনে মেইন রাস্তায় উঠিয়া সাবেক মেম্বার মতিন-কে দেখতে পাইয়া তাহার সহিত ঘটনা সংক্রান্তে আলোচনা করার সময় উপরোক্ত বিবাদীরা দেশীয় ধারালো চাপাতি, সুইচ গিয়ার, ছুরি, লাঠি-সহ আমার চাচাকে ঘেরাও করে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ শুরু করে। চাচা গালি গালাজ করতে নিষেধ করলে ৪নং ও ৫নং বিবাদীর হুকুমে ১নং বিবাদীর হাতে থাকা ধারালো সুইচ গিয়ার দিয়া আমার চাচা সোরহাব মিয়া (৫৫)কে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করলে আমার চাচা হাত দিয়া ফিরাইতে গেলে আমার চাচার বাম হাতে বাহুর নিচে বোগলে লাগিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হয়।
২নং বিবাদী তার হাতে থাকা চাপাতি দিয়া মাথায় গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। বিবাদীদের আঘাতে আমার চাচা চিৎকার করলে আমরা চিৎকারের শব্দ শুনিয়া আমি, আমার পিতা জজ মিয়া (৬০), আমার ভাই আল হাসান (৩৬) আব্দুল্লাহ (১৮), আমার মা পিয়ারা বেগম (৪৭), চাচি কহিনুর বেগম (৪০) আগাইয়া গেলে উক্ত বিবাদীরা সকলকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমন করে।
৩নং বিবাদী আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়া আমার কপাল এবং নাকে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। ৬নং বিবাদী আমার পিতা জজ মিয়া-কে ধারালো ছুরি দিয়া দুই হাতে কোপ মারে। ৮নং বিবাদী আমার মাতা পিয়ারা বেগম (৪৭) এর ডান হাতে কজিতে ধারালো চাকু দিয়া আঘাত করিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে রাস্তায় ফেলে দেয়।
৯নং বিবাদী আমার মার গলায় থাকা ০১ ভরি ওজনের ১টি স্বর্নের চেইন যাহার মূলা-১,৬৫,০০০/- টাকা নিয়ে নেয়। ১০ নং বিবাদী আমার চাচাতো ভাই আল হাসান (৩৬)-কে মাথায় গুরুতর জখম করে। চাচি কহিনুর বেগম (৪০)-কে ১১নং বিবাদী এলোপাতারী আঘাত করে এবং ৭নং বিবাদী আমার চাচির গলায় থাকা ০৭ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন মূল্য ৭২২০০/- টাকা নিয়ে নেয়।
আমাদের সকলের চিৎকারে আশে পাশের লোকজন আগাইয়া আসলে বিবাদীরা বিভিন্ন প্রকার হমকি প্রদান করে স্থান ত্যাগ করে। উপস্থিত লোকজন আমাদের খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার আমার চাচা সোরহাব মিয়া (৫৫) এর মাথায় ৭টি সেলাই দেন এবং বোগলে ক্ষত স্থানে ২৭টি সেলাই দেন, আমার কপালে ৬টি সেলাই দেন, চাচাতো ভাই আল হাসান (৩৬)-কে মাথার সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ প্রদান করেন।
ভিকটিম পিয়াস,সোরহাব জানান,বিবাদীরা দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক বিক্রেতা ও ভূমিদস্যুতার জন্য মানুষের নিকট আতংক হয়ে উঠেছে। প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে হত্যা চেষ্টার মামলার যখন আসামী হয়েছি এখন খুন করেই আসামী হবো। এতে করে বাদীর পরিবার চরম নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে জীবন যাপন করছে। আসামী পক্ষের নিকট টাকা খেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এখনো পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করেননি বলে অভিযোগ ভিকটিমের পরিবারের।
উক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভূক্তভোগী।




