ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মুসলিমনগরের রকমতউল্লাহ’র দুই ছেলে আহসানউল্লাহ ও ওয়াসিমের প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা যেন কোনভাবেই দমাতে পারছেনা থানা পুলিশ। আর এ দুই সহোদরের মাদকের কড়ালগ্রাসে যেন ক্রমেই যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে যাচ্ছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে জানা যায়, ওসমান পরিবারের অন্যতম ঝুট সন্ত্রাসের নিয়ন্ত্রক বিসিকের সাবেক ঝুট সন্ত্রাসী রকমতের অন্যতম সহযোদ্ধা এবং আওয়ামী সৈনিকলীগের অন্যতম নেতা আহসানউল্লাহ পরিবার ৫ আগষ্টের পুর্বে যেমনভাবে মাদক বিক্রি করতো বর্তমানেও সেই একইভাবে মাদকের স্বর্গরাজ্য চালাচ্ছে তারা। আহসানউল্লাহ’র বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার অভিযোগে একাধিক মামলা থাকলেও সে এখন পুরোটাই নির্ভার করছেন যুবদল নেতা শেখ ফরিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে। তারা জানান,আহসানউল্লাহ ও তার ভাই ওয়াসিমের পাশাপাশি যুবদল নেতা শেখ ফরিদের দুই ছেলে ইয়াসিন ও লাদেনও সরাসরি যুক্ত এ মাদক কারবারীতে।
তারা আরও জানান, আহসানউল্লাহ ও ওয়াসিমের পাশাপাশি তাদের মাদক সা¤্রাজ্য দেখভাল করেন স্থানীয় আলমগীরের দুই ছেলে শরীফ ও জিহাদ। তারা বলেন,গত সপ্তাহে সাহিল গ্রুপের সামনে থাকা একটি মাদক স্পট পুলিশের উপস্থিতিতে এলাকার যুবসমাজের ব্যানারে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। এখন সেই মাদক স্পটটি বন্ধ থাকার ফলে আহসানউল্লাহ ও ওয়াসিম সহোদর নিজ বিল্ডিংয়ের সামনেই প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছেন। এতে কেউ বাধা প্রদান করতে গেলেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিবাদকারীদের উপর হামলা চালায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক মানুষ জানান, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী সৈনিকলীগের নেতা সেজে বিসিকের ঝুট সন্ত্রাসী রকমতের সাথে সখ্যতা গড়ে নির্বিগ্নে মাদক ব্যবসা করেছে এ আহসানউল্লাহ। সেই সময়ে পুলিশী কোন ঝামেলা হলে রকমতকে দিয়ে তা মুক্ত করতেন। বর্তমানে যুবদল নেতা শেখ ফরিদ এবং তার দুই ছেলেকে নিয়েই নিরাপদে এবং প্রকাশ্যে ইয়াবা-গাজাঁ ও ফেন্সিডিল বিক্রি করছে এ চক্রটি। তারা জানান,বিগত সময়ে শুধুমাত্র আওয়ামী ব্যানারের কারনে প্রকাশ্যে থেকেই মাদক বিক্রি করতো আহসানউল্লাহ ও ওয়াসিমগং। আর ৫ আগষ্ট পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও মাসখানেক পরে যুবদলের নেতার সাথে সর্ম্পক গড়ে আবারো বেপরোয়াভাবে মাদক বিকিত্রে ঝুকে পড়েছে তারা। তারা আরও বলেন,৫ আগষ্টের পর থানায় আহসানউল্লাহ’র বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা হলেও শুধুমাত্র পার্টনার যুবদল নেতা শেখ ফরিদের আশ্রয়ে এবং পুলিশী ঝামেলামুক্তভাবে জীবন যাপন করছেন এবং দিবারাত্র মাদক বিক্রি করাচ্ছেন ভাই ও সহযোগিদের দিয়ে। তারা দাবী করে বলেন,বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলার আসামী হয়ে যদি বিএনপি কিংবা যুবদলের নেতার সাথে সর্ম্পক থাকার সুবাদে একজন চিহিৃত ডেভিল ও মাদক স¤্রাট প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান তাহলে দেশের আইন নিয়ে সাধারন মানুষের মাঝে সীমাহীন প্রশ্ন উঠে। কারন বিগত সময়ে ঝুট সন্ত্রাসী রকমতের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবেই সর্বত্র আহসানউল্লাহ’র যাতায়াত ছিলো এবং তার শেল্টারেই পুরো মুসলিমনগর জুড়ে মাদকের বিশাল হাট গড়ে তুলে যা এখনও পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে। একদিকে পুলিশ যখন একই এলাকাতে একটি মাদক স্পট গুড়িয়ে দেয় অন্যদিকে যুবদল নেতার শেল্টারে মাত্র ৫০ গজ দুরেই আরেকটি মাদক স্পট পুরোদমে চালু রাখেন যা সত্যি আশ্চর্যের।
স্থানীয়রা অনিতিবিলম্বে বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামী ও মাদক স¤্রাট আহসানউল্লাহগংদের দ্রুত গ্রেফতার এবং তাদের মাদক স্পটটি বন্ধে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ-র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।




