ষ্টাফ রিপোর্টার:
ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের মধ্যে চলমান দীর্ঘদিনের বিভেদ ভুলে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নব গঠিত কমিটিতে স্বাক্ষর করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য। দলীয় কর্মসুচী পালনে অমিল হলেও স্বার্থে হাসিলের বেলায় তাদের চমৎকার মিল। স্বার্থ আর অর্থের কাছে এসব নেতাদের দ্বন্দ্ব কচুপাতার পানির মত।
ফতুল্লা থানা বিএনপির কমিটি গঠনের শুরু থেকেই সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু আর সাধারণ সম্পাদক এড. আবদুল বারী ভুইয়ার মধ্যে চলমান ছিল অভ্যন্তরিন রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। আর এই দ্বন্দ্বের কারনে দুই ভাগে বিভক্ত ছিল ফতুল্লা থানা বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রম। বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলো ফতুল্লা থানা বিএনপির প্রভাবশালী দুই নেতা পালন করতেন আলাদা ভাবে। বর্তমানে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু কর্মসুচী পালন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদের ব্যানার আর সাধারণ সম্পাদক এড. আবদুল বারী ভূইয়া সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের ব্যানারে। কোন স্বার্থে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি ও সাধারন নিজেদের মধ্যে বিভাজন ভুলে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি স্বাক্ষর করলেন সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ধু¤্রজাল। হঠাৎ করে নজরুল ইসলাম প্রধানকে সভাপতি ও মতিউর রহমান ফকিরকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে খোদ বক্তাবলীর ত্যাগী নেতাকর্মীরা ক্ষোভের সাথে বলেন,শুধুমাত্র টাকার জন্য আজকের এ কমিটি। যদি তাই না হতো তাহলে আহবায়ক কমিটির কাউকে না জানিয়ে রাতের আধারে এ কমিটি গঠন করা হতোনা।
এদিকে রবিবার বিকেলে নগরীর বাংলা ভাবন কমিউিনিটি সেন্টারে এায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসুটি অনুষ্ঠানেও বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির বিতর্কিত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য নাদিম হাসান মিঠু ও একরামুল কবির মামুনসহ বেশ কয়েকজন নেতা। তবে থানা বিএনপির সভাপতি সাধারন সম্পাদককে দীর্ঘদিন পর একই মঞ্চে দেখে অনেক নেতাকর্মীরাই হতবাক। তাহলে কি কমিটি দেয়ার অন্তরালে টাকাটাই মুখ্য বিষয় ছিলো এমনটাই প্রশ্ন একে অপরকে করতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সচিব মো.হাসান আলী জানান, আমাদের আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত না করেই এ কমিটি অনুমোদন থানা বিএনপির সভাপতি-সেক্রেটারী। কিভাবে অনুমোদন দিলেও তাও আমাদের অজানা। কারন নতুন এ কমিটির অনুমোদক সর্ম্পকে আমরা আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিব অবগত নই। আপনারা দেখছেন এ বিষয়ে পত্র-পত্রিকায় অনেক লেখা লেখি হচ্ছে। কাউকে না জানিয়ে রাতের আধারে কমিটি অনুমোদন এ বিষয়ে জেলা বিএনপি কিংবা কেন্দ্রে কোন অভিযোগ করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আমাদের অনেকেই তো জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে চিঠি দিয়েছে। তবে ইউনিয়নের কমিটি নিয়ে কেন্দ্রে অভিযোগ করাটা কেমন দেখা যায়না। তাছাড়া যদি কেউ কেন্দ্র অভিযোগ দেন তাহলে সেটা তার বিষয়।
এ বিষয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটির সাবেক আহবায়ক সুমন আকবরের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি তা বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তৃনমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জানান,রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই, স্বার্থের জন্য যেমন নিজেদের বিভেদ সৃষ্টি মাধ্যমে একে অপরের প্রতি কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি যেমন সহজ প্রথা ঠিক তেমনি অর্থের আগমনে দ্বন্দ্ব নিরসন করে ঐক্যের সৃষ্টি তেমন কঠিন নয়।




