বন্দর প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ বন্দরের হরিপুরে ঠিকাদারীত্বকে কেন্দ্র কুখ্যাত সন্ত্রাসী বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলু বাহিনী কর্তৃক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুলকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। গতকাল ৭ জুলাই সোমবার লৌমহর্ষক ওই ঘটনার ৯ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ হত্যা চেষ্টাকারীদের কাউকে এখনো গ্রেফতার করতে না পারায় জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার করছে। এদিকে ঘটনার ৫দিন পরে পুলিশ বজলু কুতুবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বজলু বাহিনীর ২ সদস্যকে আটক করলেও মহানগর বিএনপির জনৈক দুই নেতার অনুরোধে পুলিশ সসম্মানে তাদেরকে ছেড়ে দেয়ায় সচেতন মহলে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন্দর উপজেলা বিএনপির জনৈক নেতা জানান,বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের কর্মকান্ডের সম্পৃক্ততার কারণে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা এমনিতে হারিয়ে গেছে তার উপরে এই সময়ে এসে যদি দলীয় নেতাদের নির্দেশে একইভাবে দায়িত্ব পালণ করে তাহলে মানুষ যাবে কোথায়। এদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি কখনো ফিরে আসবে বলে মনে হয় না। যেখানে একজন নন্দিত জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্যে হত্যার চেষ্টা চালালো সেখানে সেই ঘটনার ৯দিন পার হওয়ার পরও পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতারে কোন তৎপরতা নেই। তার উপরে দুইজন আসামীকে গ্রেফতার করেও আবার সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয়দাতাদের সুপারিশে ছেড়ে দেয় এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না।
এদিকে পুলিশের এহেন ভূমিকার ফলে মুকুল সমর্থক তথা বিএনপির বৃহৎ একটি অংশে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করছে। অনতিবিলম্বে ডন বজলুসহ অন্যন্য আসামীদের গ্রেফতার না করা হলে তারা বৃহৎ থেকে বৃহৎ কর্মসূচীর ডাক দিবে বলে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে ৯দিনেও আসামিরা অধরা থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন হামলার শিকার হওয়া বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল। তিনি বলেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছি। শরীরে এখনো তীব্র ব্যাথা অনুভব করছি। পুরো পরিবার ট্রমার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি।’
তবে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহমর্মিতার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘পুলিশের আন্তরিকতা ও তৎপরতা থাকলে এতদিনে আসামি গ্রেফতার হয়ে যাওয়া যুক্তিসঙ্গত ছিল।’ একটি ঈর্ষাম্বিত মহল প্রতিপক্ষের সাথে যোগসাজশে পুলিশের গতি কমিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি ধারনা করছেন। যতদ্রুত সম্ভব আসামি গ্রেফতার করে তাদেরকে আইনি প্রক্রিয়ার ভেতর আনার দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি লিয়াকত আলী জানান,আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। সন্ত্রাসীদের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ম্যাসেজ একটাই সন্ত্রাস করলে কোন ছাড় হবে না।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২ জুন) মেসার্স দেওয়ান এন্টার প্রাইজ হাজীগঞ্জ ফতুল্লা ইউপি টেন্ডারের মাধ্যমে হরিপুর ৪১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টি আই কাজের কার্যাদেশ প্রাপ্ত হয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা পিজি জমা প্রধান করে বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আতাউর রহমান মুকুল চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নেয়। এর জের ধরে সোনারগাঁ থানার কুতুবপুর এলাকার চিহ্নিত খুনি সন্ত্রাসী বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলু নেতৃত্বে উল্লেখিত সন্ত্রাসীসহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন মের্সাস দেওয়ান এন্টার প্রাইজের নিকট ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসতেছে। এর ধারাবাহিকতা গত রোববার (২৯ জুন) দুপুর অনুমানিক সাড়ে ১২টায় সাব ঠিকাদার ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ মোঃ আতাউর রহমান মুকুল (৬৮), ও মামলার বাদীসহ সোবহান ও কাউছার বন্দর থানাধীন হরিপুর বিদুৎ কেন্দ্রে চুক্তি স্বাক্ষর করার জন্য গেলে উল্লেখিত সকল বিবাদীগংরা অতর্কিত ভাবে গাড়ীর চারদিকে ঘোরাও করে গাড়ীর গতিরোধ করে। একপর্যায়ে গাড়ীতে থাকা অবস্থায় ১ নং বিবাদীর হুকুমে উল্লেখিত সকল বিবাদীরসহ অজ্ঞাত বিবাদীরা বে আইনী জনতাবদ্ধে দেশীয় অস্ত্র সন্ত্র নিয়া আমার ও আলহাজ্ব মোঃ আতাউর রহমান মুকুল নিকট পূনরায় পূর্বের দাবিকৃত টাকা চাঁদা দাবি করে। এবং বলে যে, বিবাদীদের দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দিলে কোন চুক্তি স্বাক্ষর করিতে দিবে না। আমি ও আলহাজ্ব মোঃ আতাউর রহমান মুকুল এবং সঙ্গীরা তাদের কথামত চাঁদা দিতে অস্বীকার করিলে ১৩ নং বিবাদী সাইদুর ওরফে সাইফুল আমাকে ও আলহাজ মোঃ আতাউর রহমান মুকুলকে গাড়ী হতে টেনে হেচড়ে নামায়। ২ নং বিবাদী রাসেল ভিকটিম আলহাজ্ব মোঃ আতাউর রহমান মুকুলকে তার হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্বক জখম করে। ৩ নং বিবাদী কামাল ওরফে কেরা কামাল তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে আলহাজ্ব মোঃ আতাউর রহমান মুকুলকে মাথার ডান পাশে কপালের উপরে আঘাত করে মারাত্বক জখম করে। ৪ নং বিবাদী গোলজার আলহাজ্ব মোঃ আতাউর রহমান মুকুল এর গালের বাম পাশে বারি মারিয়া মারাত্বক জখম করে। ১৩ নং বিবাদী সাইদুর ওরফে সাইফুলের হাতে থাকা লোহার রড দিয়া সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আতাউর রহমান মুকুলের ডান পায়ের পাতায় হাড়ভাংঙ্গা গুরুত্বর জখম করে। পরবর্তীতে উল্লেখিত বিবাদীরা তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র সন্ত্র নিয়া আমাদের সকলের উপর আক্রমন করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। ১১ নং বিবাদী হযরত আলী, ১২নং বিবাদী রাজ মিয়া ও ১৮ নং বিবাদী আলী আক্কাস সাবেক চেয়ারম্যানআলহাজ মোঃ আতাউর রহমান মুকুলের গায়ে পরিহিত পাঞ্জাবী ও পায়জামা ছিড়ে ফেলে তার সম্মানহানী করে। ৭ নং বিবাদী আকাশ আতাউর রহমান মুকুলের একটি ব্যবহৃত মোবাইল আইফোন যার মূল্য অনুঃ ১,৫০,০০০/- টাকা সহ মানিব্যাগের ভিতরে থাকা ১,২০,০০০/- টাকা নিয়া যায়। আমাদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন আগাইয়া আসিলে উল্লেখিত বিবাদীরা আমাদের প্রকাশ্যে খুন জখমের হুমকি দিয়া চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পরবর্তীতে থানা পুলিশের সহায়তায় আশেপাশের লোকজন আমাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে।
উন্নত চিকিৎসার জন্য আলহাজ আতাউর রহমান মুকুল নারায়ণগঞ্জ শহরের মেডিনোভা ও সিলভার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে এ ঘটনায় বন্দর থানায় সন্ত্রাসী ডন বজলুকে প্রধান আসামী করে মামলা করেন তিনি।




