সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেছেন, বিএনপি এদেশের সবচাইতে জনপ্রিয় দল, সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে বিএনপি রাজনীতি করে, দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে আমাদের যেমন আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, তেমনিভাবে উন্নয়নের যে কর্মসূচি সেটাও আগামী দিন বাস্তবায়ন করার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।
বুধবার ( সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা বিএনপি’র উদ্যোগে এক বিজয় র্যালিতে এ সব কথা বলেন।
এ সময় বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হাজারো গাড়িবহর ও নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপি সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা এলাকায় প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় নেতাকমীদের হাতে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা। এ সময় র্যালিতে বিএনপি’র পক্ষে নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মো. মাজেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে র্যালিতে আরো উপস্থিত ছিলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম, এ, হালিম জুয়েল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর জি, এম, সাদরিল, সহ-সভাপতি ডি,এইচ,বাবুল, সহসভাপতি রওশন আলী, সহ-সভাপতি এড্যাঃ মাসুদুজ্জামান মন্টু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাধীন, সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর হোসেন, ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনিস সিকদার, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান। অপরদিকে ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ মোল্লার সভাপতিত্বে ফতুল্লায় উপস্থিত ছিলেন- সাবেক সভাপতি অধ্যাপক খন্দাকার মনিরুল ইসলাম, ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন খন্দাকার শিপন, সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আলী, ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসান মাহমুদ পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী বিল্লাল হোসেন, কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মঈনুল হাসান রতন, বিএনপি নেতা সুমন মাহাবুব, নাছির প্রধান, আশিক মাহমুদ সুমনসহ আরো অনেকে।
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, আজকের এইদিনে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা বহুদলীয় গণতন্ত্রের পূর্ণপ্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। আজকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি আমাদেরপ প্রাণপ্রিয় নেত্রী আন্দোলন, সংগ্রামে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে যিনি জাতির কাছে আপোষহীন নেত্রী হিসেবে খেতাব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং দেশের সবচাইতে বেশি জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আজকের এইদিনে সালাম জানাচ্ছি, আরো সালাম জানাচ্ছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। যিনি স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে বিদেশে অবস্থান করেও বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন, আন্দোলন, সংগ্রামের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং সফল ভাবে দলকে পরিচালনা করে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সবচাইতে বেশি ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, ১৭ বছর বিএনপির আন্দোলন, সংগ্রামের মধ্যদিয়ে সবচাইতে বেশি যারা ত্যাগ শিকার করেছেন, সবচাইতে বেশি নির্যাতন যারা বেশিভোগ করেছেন সেটা হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থক, গুম, খুন, হত্যা, মিথ্যা মামলা, জেল জুলুম, সকল নির্যাতন সহ্য করে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি আমরা। তিনি বলেন, ১৭ বছরের আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বিএনপির, পরবর্তী সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সাথে একাকার হয়ে যাওয়ার পর ২০২৪ সালে ৫ আগষ্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন ঘটে। শেখ হাসিনা তার সকল নেতাকর্মী, পরিবার পরিজনকে নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, আজকে অনেকে এই আন্দোলন সংগ্রামের কৃর্তৃত দাবী করতে চায়, আমাদের নেতা তারেক রহমান ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিএনপির নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা করেছে এটা দেশবাসী ও পৃথিবী জানে। এখনো পর্যন্ত আমাদের নেতা আন্দোলনের মধ্যে রয়েছেন। ১৯৭১ সালে আমরা মহান মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহন করেছি গনতন্ত্রেও এক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করছে, দেশ স্বাধীন করেছি।
তিনি বলেন, আবার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য, গণতন্ত্র পূণরুদ্ধার করার জন্য, ১৭ বছর আন্দোলন করেছে। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে এখনো দেশে রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। যতক্ষন পর্যন্ত না দেশে গণতন্ত্রির রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় ততক্ষণ পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন সংগ্রাম চলবে।




