ষ্টাফ রিপোর্টার:
টাকা বিনিময়ে আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী ও আওয়ামী দোসরদের আহবায়ক কমিটির পদ-পদবী দিয়ে দলকে অনেকটা বিতর্কের মুখে ফেলছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষকদলের আহবায়ক ডাঃ মো.শাহীন মিয়া এবং সদস্যসচিব মো.আলম মিয়া। এমনটাই অভিযোগ করছেন তৃনমুল থেকে অনেক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
গত কয়েকদিন যাবত জেলা কৃষকদলের আহবায়ক ও সদস্যসচিব স্বাক্ষরিত কৃষকদলের কয়েকটি থানা কমিটির অনুমোদিত আহবায়ক কমিটিতে দেখা যায় যে,আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী ও আওয়ামী দোসরদের গুরুত্বপুর্ন পদে আসীন করেই দেয়া হচ্ছে নতুন এ কমিটিগুলো।
গত ২১ সেপ্টেম্বর জেলা কৃষকদলের আহবায়ক ডাঃ মো.শাহীন মিয়া ও সদস্যসচিব মো.আলম মিয়া স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের প্যাডে সোনারগাঁ উপজেলার ৪০ সদস্য বিশিষ্ট কৃষকদলের আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। সেই কমিটিতে যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দেয়া হয়েছে সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা মো.মেহেদী হাসান পাভেলকে।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে জানা যায়,বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে মেহেদী হাসান পাভেল আওয়ামী ব্যানাওে বিভিন্ন মিছিল-মিটিং বীরত্বের সাথে মাঠ দাবড়িয়েছেন। ৫ আগষ্ট হাসিনা পলায়নের পর কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে অন্যত্র ছিলেন এ পাভেল। বিগত সময়ে আওয়ামী ব্যানারে অবৈধভাবে উপার্জিত মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সে উপজেলার কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়কের পদটি লুফে নেন। এ নিয়ে সোনারগাঁয়ের তৃনমুল নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের দানা বাধলেও তাতে কিছু যায় আসেনা জেলা কমিটির আহবায়ক ও সদস্যসচিবের।
তৃনমুলের মতে,টাকা বিনিময়ে বিএনপির অন্যতম অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলকে অনেক বিতকেরও মাঠে ফেলে দিয়েছেন জেলা কমিটির দুই কর্নধার। দলের বারোটা বাজলেও তা নিয়ে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। অপরদিকে আওয়ামী দোসরদেরকে টাকা বিনিময়ে দলে প্রবেশ করিয়ে দলের পাশাপাশি দেশকেও অস্থিতিশীল পরিবেশের মধ্যে ফেলছেন অর্থলোভী ডাঃ শাহীন ও আলম মিয়া।
এ বিষয়ে আওয়ামীলীগ নেতা সোনারগাঁও উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক বনে যাওয়া মেহেদী হাসান পাভেলের ব্যবহৃত মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি কখনও আওয়ামীলীগ করিনি। বিগত ইউপি নির্বাচনের সময় চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবু ভাইয়ের পক্ষে একটু মিছিল করেছি এতটুকুই। আওয়ামীলীগ করেননি তাহলে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের ছবি ও আপনার ছবি সম্বলিত পোষ্টারে আপনাকে দেখা যাচ্ছে তাহলে কি সেটা ভুয়া এমন প্রশ্নের জবাবে মেহেদী হাসান পাভেল বলেন, সেটা হয়তবা কেউ এডিট করে বানিয়েছে।
তৃনমুলের মতে, দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের পরিবর্তে টাকার লোভে মাদক বিক্রেতা ও আওয়ামী দোসরকে দিয়ে কৃষকদলের কমিটির বানিজ্যের হোতা জেলা কৃষকদলের আহবায়ক ও সদস্যসচিবের বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহোদয়ের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।



