ষ্টাফ রিপোর্টার:
ফতুল্লার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা মাদকে সয়লাভ হয়ে পড়লেও এ মহামারী থেকে সমাজের প্রতিটি বয়সী মানুষকে বাচাঁতে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছেনা প্রশাসন। দিনের পর দিন জেলার শিল্পাঞ্চলখ্যাত ফতুল্লা যেন মাদক ব্যবসায়ী মাদকের শিল্প গড়ে তুলেছে। আর এ মরননেশার শিল্পনামক মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরে নিরবতা সাধারন মানুষকে দুঃস্বপ্নে রাজ্যে নিয়ে যাচ্ছে। ফতুল্লার রেলষ্টেশন ও দাপা এলাকায় একাধিক মাদক ব্যবসায়ীর জন্ম হলেও তাদের অন্যতম মাদক স¤্রাট হচ্ছেন টুটুল। নিজের খালাতো ভাই বিএনপি নেতা হওয়ার সুবাদে তার মাদকের দাপট যেন দিনের পর দিন সীমা অতিক্রম করে চলছে। টুটুলের সহযোদ্ধা জাভেদকে কয়েকদিন আগে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছেন র্যাব। তারপরও থেমে নেই টুটুলের মাদকের স্বর্গরাজ্যে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায় যে,টুটুলের মাদকের জগতের অন্যতম সদস্য হলে সদ্য নিহত হওয়া নয়নের ২য় স্ত্রী সাবিনার পরকিয়া প্রেমিক রাসেল ওরফে ঠোঙ্গা রাসেল,সাবিনার বড় মেয়ের জামাতা মো.জহির। এদের সাথেই একত্রিত হয়ে ফতুল্লার রেলষ্টেশন ও দাপা এলাকার অন্যতম মাদকের গডফাদার টুটুল পুরো এলাকাতে মাদকের নিয়ন্ত্রন করছে। নয়ন হত্যাকান্ডে জড়িত থাকায় ঠোঙ্গা রাসেল এবং র্যাবের হাতে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়ার ফলে টুটুলের সেলসম্যান জাভেদ জেলহাজতে রয়েছেন। তারপরও যেন থেমে নেই টুটুলের মাদকের আখড়ার জমজমাট বেচা-কেনা। এদিকে যুবসমাজ ধ্বংসের মহানায়ক অন্যতম মাদক স¤্রাট টুটুলকে গ্রেফতার না করায় পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের প্রতি ক্ষোভ জাড়লের স্থানীয়রা। স্থানীয় অপর মাদক স¤্রাট টুটুলের আপন মামা টিকি মরা লিটনের হাত ধরেই মাদকের জগতে প্রবেশ হয়েছে টুটুলের। এলাকাতে মামা-ভাগিনার মাদকের স্পটগুলো নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। আর এ মামা-ভাগিনাকে শেল্টারের পেছনে রয়েছে টিকি মরা লিটনের আরেক ভাগিনা যিনি একজন রাজনীতিবিদ। স্থানীয়দের মতে,সেই রাজনীতিবিদ ভাগিনার কারনেই মাদক স¤্রাট হয়েও এখনও অধরা মামা টিকি মরা লিটন আর খালাতো ভাই টুটুল। এছাড়া স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী বিশেষ ব্যক্তির সাথে সুসর্ম্পক থাকার ফলে টুটুলকে গ্রেফতারের ভীতি ছাড়াই চলছে তার মাদকের স্বর্গরাজ্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক মানুষ জানান, মাদকের বিস্তার নিয়ে কি বলবো। একজন মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষে যখন দলের নেতা এবং বিশেষ পেশার ব্যক্তিরা সাহস যোগায় সেখানে সাধারন মানুষ একেবারেই বোবা হয়ে পড়ে। আর এটা নির্মুল বা নিয়ন্ত্রনে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়াটা বর্তমানে মস্তবড় পাপ। কারন হিসেবে তারা বলেন, পুলিশ নিয়মিতভাবে মাদক স্পটগুলো হতে মাসোহারা নিচ্ছে তাদের সোর্সের মাধ্যমে। আর যদি কোন মাদক বিক্রেতার নাম উল্লেখ করে তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য বলা হয় তাহলে উল্টো বিপদে পড়তে হয় আমাদেরকে। কারন উক্ত পুলিশ, সদস্য কিংবা সোর্সরা আমাদের নাম বলে দেন যার ফলে পরবর্তীতে পরিবার-পরিজন নিয়ে এলাকাতে থাকার মুশকিল হয়ে দাড়ায়।
তারা আরও বলেন,টুটুল এবং তার মামা টিকি মরা লিটন উভয়েই অত্র এলাকাতে চিহিৃত মাদক স¤্রাট হিসেবে খ্যাত। মাদক বিক্রি করে প্রতিদিন যে পরিমান টাকা উপার্জন করে থাকে তার একটা অংশ পুলিশ/সোর্স/নেতা ও বিশেষ ব্যক্তিদের দিয়ে থাকেন বলেই তারা নিরাপদে পুরো এলাকাগুলোকে মাদকের স্বর্গরাজ্যে রুপান্তরিত করে তুলেছে। আর আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মগুলোকে নিয়ে রয়েছে মহাবিপদে। শুধু তাই নয়, তাদের বিক্রিত মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষগুলো। যার ফলে চুরি-ছিনতাইসহ নানাবিধ অপরাধের পাশাপাশি মারামারির ঘটনাও ঘটছে। আবার মাদকের সা¤্রাজ্যে টিকিয়ে একজন মাদক বিক্রেতা আরেক মাদক বিক্রেতাকে হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করছেনা। যার সর্বশেষ উদাহরন হচ্ছে নয়ন। ৭০ লাখ টাকা হেরোইনের চালান নিয়েই টুটুলের অন্যতম সহযোদ্ধা রাসেল ওরফে ঠোঙ্গা রাসেল এবং নয়নের ২য় স্ত্রী সাবিনার বড় মেয়ের জামাতা জহিরগংরা কৌশলে নয়নকে হত্যা করেন।
ফতুল্লার রেলষ্টেশন-দাপা,দাপা ইদ্রাকপুর-আলীগঞ্জসহ আশপাশ এলাকার মাদকের ভয়ংকর ডিলার টুটুলগংদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নেয়ার জন্য র্যাব-১১’র সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন উক্ত এলাকায় বসবাসরত শান্তিপ্রিয় সাধারন মানুষ।




