ষ্টাফ রিপোর্টার:
নাম তার মাসুদ খান যিনি কেনু মাসুদ @ পলিথিন মাসুদ @ ফে মাসুদ হিসেবেই ফতুল্লার সর্বজনে ব্যাপক সুপরিচিত। এক সময়ে ফতুল্লার ডিআইটি মাঠে চোলাই মদ বিক্রি করাই ছিল যার অন্যতম পেশা। পাশাপাশি থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এম.শওকত আলীর জুয়ার আসরের নাল উত্তোলন করতো। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের ক্ষমতায়নের পর থেকেই আওয়ামীলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মী বিশেষ করে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মো.শরীফুল হকের সাথে সুসর্ম্পকের খাতিরে ডিআইটি মাঠ ও হাটবাজার থেকে নিয়মিতভাবে চাঁদা উত্তোলনের মাধ্যমে রাতারাতি ভাগ্য বদলের সহায়ক হিসেবে রুপান্তরিত হয়। শরীফুলের ছোটভাই মুন্না এবং ফুফাতো ভাই কাউসার নিয়ে বাধাহীনভাবেই চলতে থাকে কেনু মাসুদের এ চাঁদাবাজি। আওয়ামীলীগের একান্ত দোসর হিসেবে পরিচিত সেই কেনু মাসুদ দীর্ঘ ১৪ মাস পর আবারও ফতুল্লার ডিআইটি মাঠ ও হাটবাজারে চাঁদা তুলছে স্থানীয় কতিপয় নামধারী অর্থলোভী বিএনপি নেতাদের সাপোর্টে। যা নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছাড়াও স্থানীয়দের মাঝে শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন। তাদের দাবী,কিভাবে একজন আওয়ামী দোসরকে নিয়ে নতুনভাবে চাঁদাবাজি করাচ্ছে সেই নামধারী বিএনপি নেতারা।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্য এবং ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ডিআইটি মাঠে চোলাই মদ বিক্রির মাধ্যমে কেনু মাসুদের ক্যারিয়ার শুরু করেন। বিগত সময়ে আওয়ামী দোসরদের আর্শীবাদে সে পুরো ডিআইটি মাঠে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে এবং রাস্তার উপরে দু’পাশে ক্ষুদ্র দোকানী ও বাজার থেকেই চাঁদা তোলা শুরু করে। তৎকালীন নেতাদেরকে যৎসামান্য টাকা দিয়ে বাকীটাকা পুরোটাই নিজের পকেটে রাখতেন তিনি। চাদাঁবাজি ছাড়াও ফতুল্লা বাজারের আশপাশে জুয়ার বোর্ডও চালিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। যা বর্তমানেও চলমান রয়েছে। কেনু মাসুদ বর্তমানেও লালপুর এলাকায় এবং ফতুল্লা বাজারের আশপাশে একাধিক জুয়ার বোর্ড চালাচ্ছেন। তবে বিষয়টি যেন কেউ উপলদ্ধি না করতে পারে সেজন্য লুডু খেলা বলে চালিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, কেনু মাসুদ চাদাঁবাজি-মাদক ও জুয়ার ব্যবসা নিয়ে প্রচুর সম্পদের মালিক হয়েছেন। কয়লা ব্যবসা,বাল্কহেডের মালিক বনে যাওয়া ছাড়াও ফতুল্লায় ২টি বাড়ি,মাসদাইর গাবতলী এলাকায় জমি ছাড়াও গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলেও প্রচুর জমি ক্রয় করেছেন এ সকল অপরাধের কাজকর্মের মাধ্যমে। তারা আরও জানান,পাগলায় অবস্থিত ভাসমান রেস্তোরা মেরি এন্ডারসনে সজি¦ ডেলিভারির অন্তরালে প্রচুর পরিমানে মাদক সাপ্লাই দিয়ে থাকে এ কেনু মাসুদ। ২০১৪ সালে ফতুল্লা ডিআইটি মাঠ হতে ফতুল্লা থানা তৎকালীন এসআই বোরহান এ কেনু মাসুদকে গ্রেফতারও করেছিল। এছাড়া চাদাঁবাজি,মাদক বিক্রি ও জুয়ার মাধ্যমে উপার্জিত কিছু অংশ টাকা চড়া সুদের উপর বাজারের দোকানী ও বিভিন্ন মানুষের মাঝে দিয়েছেন। অনেক সময় সুদের টাকার জন্য কয়েক ব্যবসায়ীর দোকান দখল ও টাকা গ্রহীতাকে মারধর করারও অভিযোগ রয়েছে এ কেনু মাসুদের বিরুদ্ধে।
এছাড়াও ফতুল্লা চৌধুরীবাড়ির জামান চৌধুরীর বাড়ির চাকর হিসেবে কেনু মাসুদের কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে টাঙ্গাইলে তার গ্রামের বাড়িতে এক স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক বোরহান বেপারীর ভাই খোকার মেয়ে নিশির সাথে পরকিয়া সর্ম্পক গড়ে তুলে তাকে বিয়ে করে। স্ত্রী হারানোর শোকে নিশির প্রথম স্বামী মো.জাহাঙ্গীর মৃত্যু বরন করেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
হঠাৎ করে আবারো ডিআইটি মাঠ ও বাজারের টাকার উত্তোলনের জন্য কেনু মাসুদের আগমন যেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন,বিএনপি নেতাদের কি এতই টাকার প্রয়োজন যে কেনু মাসুদের মত একজন চিহিৃত আওয়ামী দোসরকে আবারও পুর্নবাসন করতে হবে ? যেখানে কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ এমনকি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বলছেন যে,আওয়ামীলীগের সাথে কোন আপোষ নয়। সেখানে অর্থলোভী কিছু বিএনপি নেতা সামান্য লোভের জন্য বিএনপিসহ অন্তবর্তী সরকারকেও বিপাকে ফেলছে কেনু মাসুদের মত আওয়ামী দোসরকে আগেরস্থানে পুর্নবহাল করে।




