রাজ্জাককে তাড়িয়ে ইসদাইর এলাকার মাদক নিয়ন্ত্রণে সেলিম পেদা বাহিনী
ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ইসদাইর এলাকার চিহ্নিত মাদক সম্রাট রাজ্জাককে মামলা দিয়ে বিতাড়িত করে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বাজেট নিয়ে সেই স্থান দখল করে নিয়েছে অপর মাদক সম্রাট সেলিম পেদা ও মাদক সম্রাজ্ঞী সীমা ও তাদের অনুসারীরা। যারফলে মাদক বিক্রি বন্ধ তো দুরের কথা শুধু হাত বদল হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে,ইসদাইর রেললাইন ও বাজারের আশপাশ এলাকাটি যেন নারায়ণগঞ্জের অন্যতম মাদকের ঘাটি রুপগঞ্জের চনপাড়া বস্তিকেও যেন হারা মানাচ্ছে। মাদকের ব্যাপক প্রসার ঘটাতে গিয়ে এ এলাকাতে ইতিপুর্বে বেশ কয়েকটি হতাহতের ঘটনা ঘটলেও জেলা পুলিশ যেন দেখেও না দেখা ভান করে রয়েছেন। তবে স্থানীয়দের মতে,পুলিশে সহজ-সরল উক্তি “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্সে” রয়েছে এটা নিছক বোকা নারায়ণগঞ্জবাসীকে বোঝানোর একটি অপকৌশলমাত্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান,ইসদাইর, ইসদাইর কাপইরা পট্টি, জেলা পরিষদ,ইসদাইর রেললাইন এলাকা,চানমারী, চাষাড়া রেলষ্টেশন এলাকার মাদক স্পট নিয়ে প্রায় সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মাদক সম্রাজ্ঞী সীমার পুত্র নেংটা হোন্ডা দূর্ঘটনায় নিহত হয়। এতে রাজ্জাক জড়িত বলে সন্দেহ করে সীমা। ছেলের নিহতের ঘটনার প্রায় বছর দুয়েক মাদক সম্রাজ্ঞী সীমা ছিলেন মুন্সিগঞ্জে। সেখানে বসেই তার প্রতিদন্ধী রাজ্জাককে হঠাতে তার বাহিনীর অন্যতম সদস্য সেলিম পেদা,জাহিদ ও তার স্ত্রী বিলকিস এবং জুয়েলগংদের মাধ্যমে নিজেকে পুর্নবাসনের জন্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বাজেট নিয়ে এলাকাতে প্রবেশ করেন। এ জন্য মোবারক ও নজরুল নামে দুই যুবককে অপহরন করানো হয়। অপহৃত দুই জনের পরিবার থানায় মামলা করলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত অপহৃতদের জীবিত কিংবা মৃত উদ্ধার করতে পারেনি। তবে এ ঘটনার সন্দেহে থানা পুলিশ একাধিক আসামীকে গ্রেফতারও করেছে।
তারা আরও বলেন, মাদক বিক্রেতা শামীম হত্যাকান্ডের শিকার হলে রাজ্জাক ও তার পুত্র এবং সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করলে রাজ্জাক বাহিনী দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া ছিল। পরে রাজ্জাক গং জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে এসে পুরোদমে মাদক ব্যবসা শুরু করে।
সম্প্রতি মোবারককে অপহরন ঘটনায় মনিরের পুত্র জাকির বাহিনী ও মাদক সম্রাট রাজ্জাক জড়িত হলে মামলা হয়। এতে আবারো এলাকা ছাড়া হয় রাজ্জাক। তবে গুঞ্জন রয়েছে যে সম্প্রতি রাজ্জাকের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলার জন্য নাকি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনও নাকি এনেছেন তিনি।
এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইসদাইর এলাকার মাদক স্পটগুলো দখলে নেয় ওমর পেদার পুত্র সেলিম পেদা,মাদক সম্রাজ্ঞী সীমা,তাদের সহযোগী চানমারীর মাদক সম্রাজ্ঞী রুমি,সেলিম পেদার মেয়ের জামাই ফজর আলী, কাপইরা পট্টির এলাকার পেটকাটা রকি,বাবু উল্লেখযোগ্য।
সেলিম পেদা ও সীমা ইসদাইর মন্দিরের পিছনে আস্তানা গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইসদাইর এলাকার মাদক স্পটগুলোর দখল নিতে গিয়ে শামীম ও মানিক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ ইসদাইর ও তার আশপাশের এলাকার মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে পারেনি। বরং দিনদিন মাদক ব্যবসা বেড়ে চলছে।
অপর দিকে ইসদাইর এলাকার মাদক বিক্রেতারা সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে আসার দৃশ্য দেখে ছটকে পড়ে মাদক বিক্রেতারা।
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায় সময় মাদক বিক্রেতা গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বর্তমানে সেলিম পেদা ও সীমা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইসদাইর এলাকার মাদক স্পটগুলো। রাজ্জাক এলাকায় ফিরে আসতে তৎপরতা চালাচ্ছে। ফলে যে কোন মুর্হুতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।




