দ্রুত অভিযান পরিচালনার দাবী
ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ শহরের গলাচিপা এলাকায় পূর্ব ও পশ্চিম গ্রুপের অত্যাচার অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকার সাধারন মানুষ।
পূর্ব গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফারুক মাল আর পশ্চিম গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন শামীম হোসেন।
এই দুই সন্ত্রাসীর রয়েছে একাধিক সদস্য। এরা মাদক ব্যবসা,চুরি,ছিনতাই,মাদক সেবন,চাঁদাবাজি, ইভটিজিং,ফিটিংবাজি সহ এমন কোন অপকর্ম নেই যা করেনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, ফারুক মাল ও শামীম হোসেন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় নিজেরাই পূর্ব-পশ্চিম গ্রুপ হিসেবে ভাগ করে নিয়েছে।
পূর্ব পাশে যত বাড়িঘর রয়েছে এর চাঁদা আদায় করে থাকে ফারুক মাল ও তার সহযোগীরা। আর পশ্চিম গ্রুপের চাঁদা আদায় করে থাকে শামীম হোসেন ও তার সহযোগিতারা। এরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, বিভিন্ন বাসা বাড়ি নির্মাণ করতে হলে বাড়ির মালিক হতে চাঁদা আদায়, ছিনতাইসহ নানান অপকর্ম করে থাকে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো উভয় গ্রুপ নিজেদেরকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে থাকে। যার ফলে জনমনে বিএনপি প্রসঙ্গে একটি বাজে ধারনার জন্ম নিয়েছে। যা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যপক প্রভাব পড়বে।
একটি সূত্র হতে জানা যায়, পূর্ব গ্রুপের দলনেতা ফারুক মালের গ্রুপে রয়েছে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী,অনিক, খাজা রনী, মুক্তার চাঁন সহ আরও ২০-২৫ জন। শামীম হোসেন গ্রুপে রয়েছে মিহির, মাহবুব,সীমান্ত সহ আরো ২৫-৩০ জন।
এরা সঙ্গবদ্ধভাবে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, মাদক সেবন,সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সহ নানান অপকর্ম করে থাকে। এদের ভয়ে এলাকার প্রতিটি মানুষ সব সময় থাকে আতঙ্কের মধ্যে। কেউ কিছু বললে ওই বাহিনীর সদস্যরা প্রতিবাদকারীকে নির্যাতন করে থাকে। এমন কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিয়ে থাকে।
সরেজমিন শহরের গলাচিপা আওয়াল চেয়ারম্যান মসজিদ এলাকা,মাসদাইর, জামতলা ঘুরে জানা যায়, পূর্ব ও পশ্চিম গ্রুপের প্রতিটি সদস্য দুর্ধর্ষ প্রকৃতির। ফারুক মাল ও শামীম হোসেন তাদের সহযোগিদের দিয়ে ফিটিং দিয়ে থাকে।
পরে তারা সমাধানের কথা বলে ঐ সমস্ত বাড়ির মালিক এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরকে কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।
কেউ নতুন বাড়ি করতে গেলে পূর্ব ও পশ্চিম গ্রুপকে বাধ্যতামূলক চাঁদা দিতে হয়। নইলে কেউ বাড়িঘর করতে পারে না।
এমনকি এ বাহিনীর সদস্যদের ছাড়া কেউ ইট, বালি, রড, সিমেন্ট কিনতে পারে না। বাড়ি করতে হলে এই বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে নির্মান সামগ্রী কিনতে হবে উচ্চ মূল্যে।
শুধু তাই নয় ছাদ ঢালাই দেওয়ার সময় প্রতিটি ফ্লোর বাবদ ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পূর্ব গ্রুপের ফারুক মাল একসময় আওয়ামী লীগের দোসর রবিউলের সহযোগী হিসেবে কাজ করলেও রাতারাতি ভুল পাল্টে নিজেকে বিএনপি’র একটি অঙ্গ সংগঠনের ১৩নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে থাকে।
পশ্চিম গ্রুপের লিডার শামীম হোসেন ক্রসফায়ারে নিহত বন্দুক শাহিনের ছোট ভাই। শামীম বাহিনীর সদস্যরা হচ্ছেন মিহির, মাহাবুব,সীমান্ত, জামাল এরা গলাচিপা আউয়াল চেয়ারম্যান বাড়ির সংলগ্ন মসজিদ এলাকার প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রায় সময় সংঘর্ষ লিপ্ত হয়ে থাকে।
অনিক একটি নির্মানাধীন বাড়ির রড চুরি করে ধরা পড়লে তার অনুসারীরা তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে।
বর্তমানে মাসদাইর বাজার হতে গলাচিপা আওয়াল চেয়ারম্যানের মসজিদ রোডে ড্রেন নির্মান কাজ চলছে। রাস্তার পুরনো মালামাল উভয় গ্রুপের সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দিচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় পশ্চিম গ্রুপের সদস্য সীমান্ত ও জামাল লেবারদের মারধর করে। পরে লেবাররা নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয়।
একেক সন্ত্রাসীরা দেখতে পালোয়ানের মতো হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেনা। উভয় গ্রুপের কাছে রয়েছে অত্যাধনিক দেশীয় অস্ত্র। প্রায় ১৫ দিন আগে ফতুল্লা থানা পুলিশ গলাচিপা হতে বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্র সহ ফাইটার মনিরকে আটক করলেও অন্যতম সন্ত্রাসী জাহিদ ও ফারুক মালকে আটক করেনি পুলিশ। বরং একজন আইনজীবী ফারুক মালকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে রাখে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
পূর্ব ও পশ্চিম গ্রুপের সন্ত্রাসীরা নিজেদের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে গলাচিপা,মাসদাইর ও জামতলা এলাকায় নানান অপকর্ম করে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করে রেখেছে। এদেরকে আবার বিএনপির মিছিল মিটিংয়ে দেখা যায়।
তাই এলাকাবাসী মনে করে এ সকল নামধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ,মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মহানগর ও সদর থানা বিএনপির নেতৃবৃন্দের উচিত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা।
অবিলম্বে গোপন তদন্ত সাপেক্ষ উল্লেখিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ,মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করতে র্যাব,পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন সচেতন মহল।




