ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পঞ্চবটী চাঁদনী হাউজিং এলঅকায় গার্মেন্টস এর ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুইপক্ষের প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে গোলাগুলির ঘটনায় এক মাদ্রাসার ছাত্র ও ছাত্রদলের অপর নেতা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ২দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোন অস্ত্রধারী যুবদল নেতারুপী সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্যমতে,প্রকাশ্যে গুলিবর্ষনকারী জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির দুই আস্থাভাজন অস্ত্রধারী কয়েস আহমেদ পল্লব এবং সারজিল আহমেদ অভিকে গ্রেফতার না করতে পারায় পুলিশের প্রতি ক্ষোভের সঞ্চার দেখা দিচ্ছে থানা পুলিশের প্রতি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্যানুযায়ী জানা যায় যে, ২৪’র ৫ আগষ্টের পর থেকেই উক্ত গার্মেন্টস থেকে ঝুট নামাচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর ভাতিজা এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা এবং মশিউর রহমান রনির আস্থাভাজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সারজিল আহমেদ অভি তার সাঙ্গপাঙ্গরা। বরাবরের ন্যায় বৃহস্পতিবারও অভি ও কায়েস আহমেদ পল্লবের নেতৃত্বে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে ঝুট নামাতে গেলে প্রতিপক্ষের সাথে শুরু হয় প্রকাশ্যে গোলাগুলি। সেই দিন কায়েস আহমেদ পল্লব ও সারজিল আহমেদ অভি প্রকাশ্যেই দুই হাত উচু করে দুইজনেই তাদের ৪ হাতের মধ্যে ৪টি পিস্তল উচিয়ে গুলিবর্ষন করতে থাকে প্রতিপক্ষের উপর। পল্লব-অভি’র ছোড়া গুলিতে মাদ্রাসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইমরান নামে এক ১০ বছরের শিশু ও রাকিব নামে এক ছাত্রদল নেতা গুলিবিদ্ধ হয়। সেই গুলিবর্ষনের ভিডিও চিত্র মুঠোফোনে ধারন করে সেই সময়ে উপস্থিত একাধিক সংবাদকর্মী। সেই ঘটনা দেখার পর কায়েস আহমেদ পল্লব ও সারজিল আহমেদ অভি মুঠোফোনে গুলিবর্ষনের ধারনকৃত ভিডিওগুলো ডিলিট করাতে সংবাদকর্মীদেও মাথায় এবং পেটে পিস্তল ধরলে সংবাদকর্মীরা জীবন বাচাঁতে সেই ধারনকৃত ভিডিও ফুটেজগুলো ডিলিট করতে বাধ্য হয়েছে। এ ছঅড়াও ঘটনার সময়ে সেখানে উপস্থিত ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা মেরে উক্ত গার্মেন্টস এ আটক করে রাখে পল্লব ও অভিগং।
এ দিকে ঘটনার দুইদিন অতিবাহিত হলেও কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। যদিও স্থানীয়রা বলছেন অস্ত্রধারী দুই সন্ত্রাসী পল্লব এবং অভি তারা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তাদেরকে বাচাঁতে এবং গ্রেফতার এড়াতে খোদ বিএনপি এবং যুবদলের শীর্ষ নেতারাই কাজ করছেন। উক্ত নেতারাই নাকি অস্ত্রধারী পল্লব ও অভিকে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখেছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই কায়েস আহমেদ পল্লব সর্ম্পকে বলেন,পল্লব মুলত মশিউর রহমান রনির বডিগার্ড হিসেবে কাজ করে এবং সাথে সবসময় দুইটি অস্ত্র থাকে। গত প্রায় ৬ মাস পুর্বে আওয়ামীলীগের রাজনীতি ও মিছিল করার অপরাধে কাশিপুরের ভোলাইল টাওয়ারপাড় সংলগ্ন কাউয়াপাড়া এলাকার রাবিকুল হাসান নামে এক যুবককে বাসা থেকে তুলে তার দুইপায়ে গুলি করে। গুলি করার পর রাকিবকে কোন হাসপাতালে না পাঠিয়ে দেওভোগ নুরমসজিদ বাশঁমুলি এলাকায় এক বাড়িতে রেখে স্থানীয় ডাক্তার দিয়ে সেই গুলি বের করার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। প্রায় ৮ ঘন্টা পর উক্ত রাকিবকে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে সেই গুলি বের করে পল্লব। অপরদিকে সারজিল আহমেদ অভি সর্ম্পকে স্থানীয়রা বলেন, ৫ আগষ্টের পর থেকে অত্যাধিক বেপরোয়া হয়ে পড়ে সে। পুরো এনায়েতনগরের কয়েকটি ওয়ার্ড এবং পঞ্চবটী ও আশপাশ এলাকাতে ত্রাসের রাজত্ব শুরু করে অভি তার বাহিনীর সদস্যরা। অভি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর ভাতিজা ও মশিউর রহমান রনির আস্থাভাজন হওয়ার সুবাদে কেউ মুখ খুলে কিছু বলতে সাহস পেতনা। তবে বৃহস্পতিবারে চাঁদনী হাউজিংয়ে গার্মেন্টস এর ঝুট নামানো নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে গুলি করার ঘটনার পর থেকে স্থানীয় অনেক ভুক্তভোগী মানুষ অভি’র বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে।
তবে এনায়েতনগর ইউনিয়ন তথা চাঁদনী হাউজিং ও আশপাশ এলাকার শান্তিকামী সাধারন মানুষ সেই দিনের ঘটনায় প্রকাশ্যে গোলাগুলি ও মাদ্রাসা ছাত্রসহ দুইজনকে গুলিবিদ্ধের ঘটনায় সারজিল আহমেদ অভি ও কায়েস আহমেদ পল্লবের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং তাদের গ্রেফতারে জেলা পুলিশের কাছে জোড় দাবী জানান।




