ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের সাধারণত শিক্ষার্থীদের আপত্তি থাকা স্বত্বেও প্রিন্সিপাল একক সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে কমিটিতে স্বাক্ষর করে অনুমোদন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের সাধারন শিক্ষার্থীদের অভিযোগে জানা যায়, গত ২০২১-২২ সালে কলেজ থেকে পাশ করে চলে যাওয়া শিক্ষার্থী ও আওয়ামী দোষরদের সাথে নিয়ে সমন্বয়ে গঠিত কমিটিতে কলেজের প্রিন্সিপাল এড. সাখাওয়াত হোসেন ভুইয়া সাক্ষর করে অনুমোদন দিয়েছেন।
কলেজের সাধারন শিক্ষার্থীরা আরো জানান, অনৈতিক সুযোগ সুবিধা পেয়ে প্রিন্সিপাল এই কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। আমরা আরো জানতে পারি জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হানুল কবির কলেজের সভাপতি কিন্তু তার অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি প্রিন্সিপাল এড.সাখাওয়াত হোসেন ভুইয়া ।
প্রিন্সিপালের জন্য কলেজের পাঠদান পরিবেশ ঠিক রাখা যায় না। সে আওয়ামী শাসন আমলে সেভাবে আতাত করে চলেছেন, এখনও সেভাবে চালছেন।
কলেজের সাধারন শিক্ষার্থীদের দাবি স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে যে কমিটি দেয়া হয়েছে সে কমিটির ভিপি করা হয়েছে খন্দকার সাদ্দাম হোসেনকে। ২০২২ সালে খন্দকার সাদ্দাম হোসেন কলেজ থেকে পাশ করে চলে গিয়েছে। তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের ছাত্র না। জিএস হয়েছে নুরুন্নাহার তিন্নিকে যিনি বিগত দিনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং গড ফাদার শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের সাথে ছিল ঘনিষ্ঠতা। মুলত ওসমান পরিবারের একনিষ্ট হিসেবেই তিন্নি নারায়ণগঞ্জে সর্বজন ব্যাপক সুপরিচিত।
সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মনিরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে জড়িত। এছাড়াও ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রাসেল মিয়াজী ছাত্রশিবির রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। অপরদিকে দপ্তর সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ,ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ ইউনুস মিয়াজী, আইন সম্পাদক সবুজ প্রধান, সমাজ কল্যান সম্পাদক ফাতেমা আক্তার মাহমুদা ও ১নং সদস্য কামরুন নাহার স্মৃতি ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে বিগত দিন কাজ করেছেন।
একাধিক শিক্ষার্থীর দেয়া তথ্যে জানা যায় যে, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রহিমা শরীফ মায়ার অতিরিক্ত অর্থলোভের ফসল হিসেবে গঠিত হয়েছে বর্তমান আইন কলেজের কমিটি। ছাত্রদলের রাজনীতি না করা তিন্নিকে জিএস এবং কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী সাদ্দামকে বানানো হয়েছে ভিপি যা সম্পূর্ন অবৈধ। তিন্নির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার নিয়ে ৫ আগষ্টের পর মহিলা দলের নেত্রী বানানো এবং আইন কলেজ থেকে পাশ না করেই নামের আগে অ্যাডভোকেট শব্দ ব্যবহারকারী তিন্নিকে বসানো হয়েছে জিএস এর পদে। তাছাড়া এই আইন কলেজের সভাপতি হচ্ছেন জেলা প্রশাসক। নতুন গঠিত কমিটিতে তার কোন স্বাক্ষর নেই রয়েছে বিএনপি নেতা টিপুর। তিনি তো এ কলেজের কেউ নন।“ টিপু-মায়া”র টাকার প্রতি মায়ার বলি হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংগঠনের কমিটি।
এককভাবে সিদ্ধান্তে করা নবগঠিত কমিটি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবী, বর্তমান অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনে নির্বাচনের মাধ্যমে তারা তাদের নেতা তৈরি করে ছাত্র সংসদ গঠন করবেন।




