ষ্টাফ রিপোর্টার:
বিগত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান জনসমক্ষ থেকে উধাও। তবে তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে এক নতুন ‘লুকোচুরি খেলা’। একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে খুঁজে পাচ্ছে না, অন্যদিকে খোদ রাজপথের বিরোধী দলের নেতার দাবি তিনি নিয়মিত নিজের কারখানায় হাজিরা দিচ্ছেন!
তবে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুরে অবস্থিত সেলিম ওসমানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড।
অভিযোগ উঠেছে, সরকার পতনের পর কারখানাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একটি অংশ।
তবে আওয়ামীলীগের এ দোসর সেলিম ওসমানকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
তার দাবি, সেলিম ওসমান প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার কারখানায় আসেন।
টিপু প্রশ্ন তুলেছেন, যদি তিনি নিয়মিত কারখানায় আসেন, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রাডারে কেন ধরা পড়ছেন না? লাপাত্তা নাকি নিরাপদ আশ্রয়ে সেলিম ওসমান? এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
ওসমান পরিবারের দুই প্রভাবশালী সদস্য শামীম ওসমান ও আজমেরী ওসমানের কিছু ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসলেও, সেলিম ওসমান পুরোপুরি অন্তরালে। গুঞ্জন রয়েছে, তিনি ঢাকা বা খুলনার কোনো নিরাপদ আস্তানায় অবস্থান করছেন। গত ১৫ ডিসেম্বর ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ উইজডম অ্যাটায়ার্সে ঝটিকা অভিযান চালালেও তার কোনো চিহ্ন পায়নি। এই ব্যর্থ অভিযান পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এক সময় নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল সেলিম ওসমানের হাতের মুঠোয়। বিকেএমইএ থেকে শুরু করে চেম্বার অব কমার্স প্রায় ৭০টি ব্যবসায়ী সংগঠনের ‘অলিখিত অভিভাবক’ ছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এসব সংগঠনে ইলেকশনের বদলে ‘সিলেকশন’ প্রথা চালু করে তিনি একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছিলেন। টেন্ডারবাজি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখলের পুরনো অভিযোগগুলো এখন নতুন করে ডালপালা মেলছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতা ও জনক্ষোভ দেখা দিয়েছে, শতাধিক মামলার আসামি হওয়ার পরও কেন তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার পরও ব্যবস্থা না নেওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তোলে।
কবে একাধিক সুত্রে জানা যায়, ৫ আগষ্টে দুপুওে শেখ হাসিনার পলায়নের সংবাদের সাথে সাথেই সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লাতেও ব্যাপক তান্ডবলীলা হয়েছে। আওয়ামীলীগের রাজনীতি করা কিংবা আওয়ামী ঘেষা প্রতিটি নেতাকর্মীর বাসা কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো হামলা এবং লুটপাটের মুখোমুখি হয়েছিল। আর ফতুল্লাতে নেতৃত্বে ছিল বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা এবং তার চেলাচামুন্ডারা। সেদিন রাত ১১টার পর সেলিম ওসমানের মালিকানাধীন উইজডম অ্যাটায়ার্সেও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর উক্ত নেতার সাথে ঢাকাতে নাকি সেলিম ওসমানের মিটিং হয়েছে এবং সেই মিটিংয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছিল সেলিম ওসমানের উইজডম অ্যাটায়ার্স দেখভালের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে উক্ত প্রভাবশালী নেতাকে মাসিক মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। সুত্রগুলো জানায়,সেলিম ওসমানকে নিরাপদে রাখতে উক্ত নেতার ঢাকার ফ্লাট বাসাতেও নাকি দিনের পর দিন সেলিম ওসমান অবস্থান করেছিলেন নিরাপদে। এছাড়াও ঢাকার সিটির মধ্যে নাকি সেলিম ওসমানের প্রায় অর্ধশতাধিক ক্রয়কৃত ফ্লাট রয়েছে সেখানেও নাকি একেকদিন একে ফ্লাটে অবস্থান করেছিলেন সেলিম ওসমান। আর সেই নিয়মেই তিনি বর্তমানে ঢাকাতেই অবস্থান করছেন সুত্রে জানা যায়। আর সেলিম ওসমান যখন নারায়ণগঞ্জে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যাটায়ার্সে আসেন তাকে নিরাপদে আনায়নের দেখভাল করেন উক্ত নেতার চেলাচামুন্ডারা।
নারায়ণগঞ্জের অলিতে-গলিতে এখন একটাই প্রশ্ন সেলিম ওসমান কি আসলেই ধরাছোঁয়ার বাইরে, নাকি পর্দার আড়ালে কোনো বড় সমীকরণ চলছে? প্রভাবশালী এই রাজনীতিকের ‘নিখোঁজ’ রহস্যের জট কবে খুলবে, সেই অপেক্ষায় এখন নারায়ণগঞ্জবাসী।




