ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার রেলষ্টেশন ও আশপাশ এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের হাট বসলেও থানা পুলিশের একেবারে নিরবতা যেন মাদক বিক্রেতাদের অপরাধের সকল পথ সুগম করে দিয়েছে বলে অভিমত স্থানীয়দের। আর এ মাদক বিক্রেতাদেরকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে স্থানীয় অনেক পাতি নেতা-বিশেষ ব্যক্তি আর পুলিশের সোর্স। তাদেরকে নিয়মিতভাবে মাসোহারা দেয়ার ফলেই নির্বিগ্নে মাদকের ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছে আর সকল বয়সী মানুষকে মাদকের কড়াল থাবায় আসক্ত করে তুলেছে।
আর ফতুল্লার সাহারা সিটির মাঠটি যেন মাদকের হাট হিসেবেই খ্যাতি পেয়েছে নতুনভাবে। এখানে মাদকের হাটের ইজারাদার হয়েছেন স্থানীয় চিহিৃত ডাকাত শহিদের পরিবারের সকল সদস্য। তার ছেলে আজমীর ওরফে ডাকাত আজমীর,মেয়ে শরমী এবং জামাতা স¤্রাট। আর এ ত্রিরতেœর সাহায্যকারী হিসেবে রয়েছে প্রায় ৫০ জনের অধিক সেলসম্যান। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এ ত্রিরতেœর জমজমাট মাদকের হাট।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে, যুবলীগ নেতা শহিদ ওরফে ডাকাত শহিদ তার নামে বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলাসহ একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে ফতুল্লাসহ বিভিন্ন থানায়। তার গুনধর পুত্র ফতুল্লা অঞ্চলের আরেক সুপরিচিত ডাকাত আজমীর। সেও বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলার আসামী ছাড়াও রয়েছে একাধিক ডাকাতি মামলা। তার শরমী ইসদাইরের আরেক মাদক বিক্রেতা প্রতিপক্ষের হাতে নিহত শামীমের স্ত্রী। শামীম হত্যাকান্ডের পর অপর শীর্ষ মাদক বিক্রেতা স¤্রাটকে বিয়ে করে বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক বিক্রি।
তারা আরো জানান,প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভাই-বোন ও ভগ্নিপতির প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি যেন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে রুপ ধারন করে তুলেছে। সাহারা সিটি মাঠের এক অংশে একটি অটো গ্যারেজকে পুজি করেই চলছে ডাকাত আজমীর-শরমী ও স¤্রাটের মাদকের আখড়া। প্রায় ৬০টির মত অটো গাড়ি,মাঠের একপাশে ২টি বাড়ির মালিক বনে যাওয়া ডাকাত শহিদের পরিবার যেন এখন অন্যতম প্রভাবশালী রুপ ধারন করেছে। মাদক বিক্রির টাকাতেই গড়ে তুলেছে এ সকল সম্পদ। পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর নগদ অর্থ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেক বাসিন্দা জানান, ভাই-বোন ও ভগ্নিপতির প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির ফলে অনেকের কাছে ফতুল্লার চিরচেনা সাহারা সিটি মাঠটি নতুনভাবে মাদকের সিটি হিসেবে আখ্যা পেতে শুরু করেছে। ডাকাত আজমীর-শরমী ও স¤্রাটের সেলসম্যানরা প্রতিদিনই সেখান থেকে তাদের নিজস্ব অটোযোগে ফতুল্লার রেলষ্টেশন,দাপাসহ আশপাশ এলাকায় পাইকারীভাবে মাদক সাপ্লাই দিচ্ছে। আর এ কাজে ব্যবহার করছে তাদের অটো গ্যারেজের দুইজন প্রতিবন্ধি চালককে।
তারা আরও বলেন,ডাকাত শহিদের পরিবারের সদস্য ডাকাত আজমীর,তার বোন শরমী ও ভগ্নিপতি স¤্রাটকে অত্র এলাকাতে মাদকের হাট গড়ে তুলতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে স্থানীয় কতিপয় অর্থলোভী নেতা,বিশেষ ব্যক্তি আর পুলিশের নামধারী সোর্স।
একাধিক সুত্রে জানা যায় যে,ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের কয়েকজন অর্থলোভী পুলিশ সদস্যকে সাপ্তাহিক মাসোহারা ভিত্তিতে নাকি প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ডাকাত আজমীর,তার বোন শরমী ও ভগ্নিপতি স¤্রাট। তাদেরকে নাকি সপ্তাহ ভিত্তিকভাবে ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিচ্ছে অন্যতম মাদক বিক্রেতা ডাকাত আজমীর,তার বোন শরমী ও ভগ্নিপতি স¤্রাট। যে কারনে থানাধীন প্রতিটি এলাকাতে মাদক বিরোধী অভিযান চললেও সাহারা সিটি মাঠ ও আশপাশ এলাকাতে মাদক বিরোধী কোন অভিযান চলেনা। তবে স্থানীয়দের মতে, মাদক ব্যবসা ছাড়াও আশপাশ এলাকাতে ছিচকে চুরি-ছিনতাই এবং ডাকাতি কাজেও জড়িত ডাকাত আজমীর। সে বর্তমানে তার বাহিনী দিয়ে এ সকল অপকর্মগুলো চালিয়ে যাচ্ছে।
সাহারা সিটি ও আশপাশ এলাকার সাধারন বাসিন্দারা ডাকাত শহিদ পরিবারের মাদক ব্যবসা বন্ধসহ তাদের দ্বারা সংঘটিত সকল অপরাধকর্ম থেকে বাচঁতে জেলা পুলিশ সুপার ও র্যাবের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।




