ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৬নং শাসনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালিগালাজ, অপমান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, গত ১৬ মার্চ ২০২৬ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বিধিমালা অনুযায়ী সদস্য-সচিব হিসেবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্ধারিত ক্যাটাগরি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি প্রস্তাবিত কমিটি প্রস্তুত করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৮ জুলাই (বুধবার) ওই প্রস্তাবিত কমিটির তালিকা জমা দেওয়ার প্রস্তুতির সময় কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক নিজেদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেন। প্রধান শিক্ষক এতে অসম্মতি জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে গালিগালাজ, অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমনকি প্রস্তাবিত কমিটি জমা দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরদিন ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল আনুমানিক ১১টায় একই ব্যক্তিরা আবারও বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন ।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, জুম্মন মোল্লা নামের একজন ব্যক্তি জানান, তাদের পছন্দের কমিটি ছাড়া অন্য কোনো কমিটি গ্রহণ করা হবে না। তিনি নাকি বলেন, “এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কমিটি হবে না, আমরা আমাদের মতো কমিটি করবো। আমরাই আইন তৈরি করি, আইনের কোনো ধার ধারি না।” এমন বক্তব্য দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, জুম্মন মোল্লা দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের দাবি, ওই সময়ে তিনি ডেকোরেটর ব্যবসার আড়ালে ফুটপাত দখল, মাদক ব্যবসা ও সেবন, কিশোর গ্যাং পরিচালনা, চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং নারীসংক্রান্ত বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এসব অভিযোগের পক্ষে আরও তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, একই দিন বাদ আছর বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে একটি বিকল্প ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। তাদের দাবি, ওই কমিটিতে বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই কমিটির কাগজপত্র উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের একাংশের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই নিরাপত্তার শঙ্কায় প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না। তাদের আশঙ্কা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার ও বিশৃঙ্খলার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা। ভবিষ্যতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।




