ষ্টাফ রিপোর্টার:
সারাদেশে অক্টোবরে কমপক্ষে ৭০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৩৪ জন। এর মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলেই ৩৫টি ঘটনায় নিহত হন ৯ জন ও আহত ১৮৫ জন। একই সময়ে গণপিটুনির ৩৩ ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন।
একই মাসে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার ছয়টি ঘটনায় ৩৫ জন আহত ও একজন নিহত হন। এর মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে চারটি ঘটনায় ৩১ জন আহত ও একজন নিহত এবং অন্য দলের মধ্যে সহিংসতার দুটি ঘটনায় চারজন আহত হন। মব সহিংসতার ২২ ঘটনায় নিহত একজন এবং আহত হন ৩৬ জন। কারাগারে ১৯ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সাংবাদিক নির্যাতনের ২৮ ঘটনায় ৪৬ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন।
গতকাল মঙ্গলবার হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) প্রকাশিত মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে ৬৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত চারজন এবং আহত হন কমপক্ষে ৫২৭ জন।
এ ছাড়া দুর্বৃত্তদের হামলায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের হতাহতের ১১ ঘটনায় ছয়জন আহত ও সাতজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির দুজন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চারজন ও একজন চরমপন্থি রয়েছেন। অন্তত ৩১ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। আধিপত্য বিস্তার, দখলদারি, রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজি ঘিরে সারাদেশে ২২ ঘটনায় ৭০ বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, সংঘর্ষ, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ২০২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩১৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।
বিভিন্ন কার্যক্রমে এ মাসে ২৫ হাজার ১৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের অন্তত ৩৮৪ জন, বিএনপির ৮১, জামায়াতে ইসলামীর ২৭, এনসিপির একজন এবং উগ্রপন্থি ও চরমপন্থি সংগঠনের ১৮ জন সদস্য রয়েছেন।
পরিত্যক্ত স্থানে দুর্বৃত্তদের হাতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবরে এ ধরনের ৫৩ ঘটনায় ৫৫ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে তিনটি ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হামলায় একজন নিহত ও দুজন আহত হন। এ ছাড়া ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আরও দুজনের মরদেহ পাওয়া গেছে।
গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে সারাদেশে গণপিটুনির ৩৩ ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। মব সহিংসতার ২২ ঘটনায় ৩৬ জন আহত ও একজন নিহত হন। এ সময় মব সহিংসতাকে কেন্দ্র করে দুজনকে হেনস্তা, ছয় পুলিশ সদস্যকে আহত, সাতটি বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং চারটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মাসে ৯টি সভা ও সমাবেশ আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বাধা দিয়েছে। এতে ১০৮ জন আহত, চারজন গুলিবিদ্ধ ও ৩১ জন আটক হয়েছেন। এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অন্তত ১৫ ঘটনায় ২০ জনকে আটক ও ১৫টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় অন্তত ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনার জেরে দুটি ঘটনায় তিনজনকে আটক ও দুটি মামলা হয়। গত মাসে জুলাই ইস্যু, মাদক, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ধর্মীয় অবমাননাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার জেরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে একজনকে পিটিয়ে হত্যা, তিনজনকে নির্যাতন এবং একজনকে সাময়িকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
বিচারবহির্ভূত হত্যা ও কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাদেশের কারাগারে ১৯ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন কয়েদি ও ১৫ জন হাজতি। মৃতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের দুজন এবং বাকি ১৭ জন সাধারণ বন্দি। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত হন। তিনজনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে মারা গেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চারটি হামলার ঘটনায় সাতটি প্রতিমা ও তিনটি বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময়ে শেরপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক দুটি ঘটনায় দুটি মাজারে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে।
একই সময়ে ৭১ শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১৩৪ জন আহত হন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ৩৮ জন শ্রমিক মারা যান।




